সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ডিজিটাল লোন দেওয়ার প্রলোভন দেখিয়ে কোটি টাকা আত্মসাৎ করার অভিযোগে এক চক্রের সদস্য মেহেদী হাসান মাহিনকে (১৯) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগ (ডিবি)।
গত সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) ভোরে জামালপুরের সরিষাবাড়ী এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করে ডিবির সাইবার অ্যান্ড স্পেশাল ক্রাইম (উত্তর) বিভাগ। গ্রেপ্তারের সময় তার কাছ থেকে একটি ল্যাপটপ, চারটি মোবাইল ফোন এবং বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত ৬১টি অবৈধ সিম কার্ড জব্দ করা হয়েছে।
ডিবি সূত্রে জানা গেছে, গ্রেপ্তারকৃত মাহিন একটি সংঘবদ্ধ প্রতারক চক্রের সক্রিয় সদস্য। এই চক্রটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ‘গ্রামীন লোন’ নামের একটি পেজ ও প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে ডিজিটাল লোন দেওয়ার আকর্ষণীয় বিজ্ঞাপন প্রচার করত।
তদন্তে জানা গেছে, বিজ্ঞাপনে আগ্রহী হয়ে লোনপ্রত্যাশীরা যোগাযোগ করলে তাদের একটি নির্দিষ্ট ভুয়া ওয়েবসাইটে অ্যাকাউন্ট খুলতে বলা হতো। এরপর লোন অনুমোদনের শর্ত হিসেবে কাঙ্ক্ষিত অঙ্কের ১০ শতাংশ টাকা জামানত হিসেবে বিকাশ, নগদ বা রকেটের মাধ্যমে পাঠাতে বাধ্য করা হতো। লোন প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ভুক্তভোগীদের জাতীয় পরিচয়পত্রের ছবিও সংগ্রহ করা হতো।
জামানতের টাকা পাওয়ার পর ভুক্তভোগীর অ্যাকাউন্টের ভুয়া ড্যাশবোর্ডে কাঙ্ক্ষিত লোন ও জামানতের টাকা ভার্চুয়ালি দেখিয়ে তাদের বিভ্রান্ত করা হতো। তবে বাস্তবে সেখান থেকে কোনো টাকা উত্তোলনের সুযোগ ছিল না। এই প্রতারণা কার্যক্রম পরিচালনা করতে চক্রটি বিভিন্ন ব্যক্তির নামে নিবন্ধিত অবৈধ সিম কার্ড ব্যবহার করত।
রমনা মডেল থানায় দায়ের করা একটি মামলার তদন্ত চলাকালীন তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের মাধ্যমে মাহিনের অবস্থান শনাক্ত করা হয়। অভিযানকালে তার ডিভাইসে ‘গ্রামীন লোন’ ফেসবুক পেজ ও ওয়েবসাইটের ড্যাশবোর্ড সক্রিয় লগইন অবস্থায় পাওয়া গেছে।
আইনগত প্রক্রিয়া শেষে মেহেদী হাসান মাহিনকে আদালতে পাঠানো হয়েছে। রমনা মডেল থানায় এই ঘটনায় মামলা দায়ের করা হয়েছে এবং তদন্ত কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।