ফ্রান্সের প্যারিসে ইউনেস্কো আয়োজিত ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’-এর ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার যুগে শিক্ষা’ শীর্ষক সেশনে প্রধান অতিথি হিসেবে যোগ দেন বাংলাদেশের শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন। মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) অনুষ্ঠিত এই সেশনে তিনি কৃত্রিম বুদ্ধিমুক্তির (এআই) শিক্ষাখাতে ব্যবহার নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ মন্তব্য করেন।
শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "শিশুদের কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) ব্যবহারে সক্ষম করে গড়ে তুলতে হলে তাদের শিখন দক্ষতা আরও বৃদ্ধি করতে হবে। সময়ের চাহিদায় এতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।"
তিনি জানান, বাংলাদেশের শিক্ষার্থীদের ভিত্তিমূলক বা বুনিয়াদি শিক্ষায় কিছুটা দুর্বলতা রয়েছে। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সুবিধা নিরাপদে ও সর্বোচ্চভাবে গ্রহণ করতে হলে শিক্ষার্থীদের পড়াশোনা, যুক্তি উপস্থাপন এবং তথ্য যাচাই করার দক্ষতা বাড়ানো জরুরি।
এআইয়ের সুবিধা ও সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, "কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আমাদের অনেক সময় বাঁচায়, তবে সব ক্ষেত্রেই এটি ব্যবহারের সুযোগ নেই। তা সত্ত্বেও সময়ের প্রয়োজনে এর থেকে পিছিয়ে থাকার সুযোগ নেই।" তিনি উদাহরণ দিয়ে ব্যাখ্যা করেন যে, শিক্ষক নিয়োগ, পদোন্নতি, মূল্যায়ন বা শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণের মতো সংবেদনশীল বিষয়ে কেবল স্বয়ংক্রিয় ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করা সম্ভব নয়।
উক্ত সেশনে বিশ্বের ২৫টি দেশের শিক্ষামন্ত্রী ও সংশ্লিষ্ট প্রতিনিধিরা অংশ নেন। ফ্রান্সের প্যারিসে ৮ থেকে ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত ইউনেস্কোর উদ্যোগে ‘ডিজিটাল লার্নিং উইক’ চলছে। ২০২৬ সালের এই আয়োজনের মূল প্রতিপাদ্য হলো ‘কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) যুগে শিক্ষা: সত্য, দ্বন্দ্ব, সীমানা’।