চট্টগ্রামে পর্যাপ্ত উৎপাদন সক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও গ্যাস সংকট, বাতাসের অভাব ও দীর্ঘস্থায়ী কারিগরি ত্রুটির কারণে পাঁচটি বিদ্যুৎকেন্দ্র সম্পূর্ণ বন্ধ রয়েছে। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) চট্টগ্রাম সিস্টেম কন্ট্রোলের (স্কেডা) সর্বশেষ জেনারেশন প্রতিবেদন অনুযায়ী, সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) অন্তত পাঁচটি কেন্দ্র থেকে সারা দিন শূন্য মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে। এই ঘটনা ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বরও লক্ষ্য করা গিয়েছিল।

স্কেডার তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, ১৫ মেগাওয়াট সক্ষমতার দেশ এনার্জি, ১০০ মেগাওয়াটের দোহাজারী কেন্দ্র, ৬০ মেগাওয়াটের কক্সবাজার উইন্ড পাওয়ার এবং রাউজান তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের রাউজান-০১ ও রাউজান-০২ ইউনিটগুলো বেলা ১১টা থেকে সন্ধ্যা ৭টা পর্যন্ত এক মেগাওয়াটও বিদ্যুৎ দেয়নি। অন্যদিকে, ৫০ মেগাওয়াট সক্ষমতার ইউনাইটেড পাওয়ার বেলা ১১টায় সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও সন্ধ্যায় নামমাত্র ৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনে ফিরে আসে।

বন্ধ থাকা কেন্দ্রগুলোর পাশাপাশি চালু থাকা বেশ কয়েকটি প্ল্যান্টেও সক্ষমতার তুলনায় উৎপাদন ছিল অত্যন্ত কম। সোমবার সন্ধ্যায় ৩০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার আনোয়ারা ইউনাইটেড থেকে মাত্র ১৬ মেগাওয়াট (সক্ষমতার সাড়ে ৫ শতাংশের কম), ১৫০ মেগাওয়াটের বি.আর পাওয়ার থেকে ৩০ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াটের এনার্জিপ্যাক থেকে ৩৭ মেগাওয়াট, ১০০ মেগাওয়াটের হাটহাজারী থেকে ৫০ মেগাওয়াট এবং ৫৪.৪ মেগাওয়াটের জুডিয়াক থেকে ১৭ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদিত হয়েছে।

তবে চট্টগ্রাম অঞ্চলের বিদ্যুৎ নেটওয়ার্ককে স্থিতিশীল রেখেছে কয়লাভিত্তিক ও বৃহৎ কেন্দ্রগুলো। একই সন্ধ্যায় ১ হাজার ২০০ মেগাওয়াট সক্ষমতার মাতারবাড়ী কেন্দ্র থেকে ১ হাজার ১৩০ মেগাওয়াট এবং ১ হাজার ৩২০ মেগাওয়াট সক্ষমতার এসএস পাওয়ার থেকে ১ হাজার ২২৪ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া গেছে। এছাড়া শিকলবাহা ২২৫ মেগাওয়াট কেন্দ্র থেকে উৎপাদিত হয় ২১৩ মেগাওয়াট।

বৃহৎ কেন্দ্রগুলো চালু থাকলেও স্থানীয় চাহিদা ও আঞ্চলিক বরাদ্দের বৈষম্যের কারণে চট্টগ্রামে লোডশেডিং এড়ানো যায়নি। সোমবার সন্ধ্যার পিক আওয়ারে (সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৭টা) চট্টগ্রামের মোট বিদ্যুতের চাহিদা দাঁড়িয়েছিল ১ হাজার ৫৭৬ দশমিক ৯৭ মেগাওয়াট (পিডিবি ১ হাজার ৯৫ দশমিক ৫৪ মেগা ওয়াট এবং পল্লী বিদ্যুৎ ৪৮১ দশমিক ৪৩ মেগা ওয়াট)। কিন্তু সরবরাহের পরিমাণ ছিল ১ হাজার ৩০৭ দশমিক ৭৭ মেগাওয়াট। ফলে সন্ধ্যার ব্যস্ত সময়ে চট্টগ্রামে ২৬৯ দশমিক ২০ মেগাওয়াট তীব্র লোডশেডিং করতে হয়েছে। এর আগে ৫ ও ৬ সেপ্টেম্বর যথাক্রমে ১৮১ দশমিক ২০ মেগাওয়াট ও ১৫৫ দশমিক ৮০ মেগাওয়াট ঘাটতি ছিল, যা সোমবারে আরও বৃদ্ধি পায়।

রাউজান তাপবিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী মুজিবুর রহমান মুক্তকণ্ঠকে জানান, গ্যাস না থাকায় রাউজানের কেন্দ্র চালানো সম্ভব হচ্ছে না। এখানকার দুটি ইউনিট চালু থাকলে ২১০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ করা সম্ভব হতো। কিন্তু দীর্ঘ দুই বছর ধরে মেরামত না করতে পারায় একটি ইউনিট বন্ধ রয়েছে, আর অন্যটি চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি থেকে গ্যাস সংকটের কারণে বন্ধ। গ্যাস সরবরাহের নিশ্চয়তা পেলেই এটি উৎপাদনে ফেরানো সম্ভব।

বিপিডিবি চট্টগ্রাম দক্ষিণাঞ্চলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান প্রকৌশলী কামাল উদ্দিন আহমেদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, প্রতিদিনের চাহিদার তথ্য জাতীয় গ্রিড কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়। কেন্দ্রীয়ভাবে জাতীয় গ্রিড থেকে আমাদের জন্য যতটুকু বরাদ্দ করা হয়, আমরা গ্রাহকপর্যায়ে তা-ই বিতরণ করি। তবে জ্বালানি সংকট বা কারিগরি কারণে বিদ্যুৎকেন্দ্রে উৎপাদন ব্যাহত হলে সরবরাহ বজায় রাখতে লোডশেডিং অনিবার্য হয়ে পড়ে।