ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সরাইল উপজেলার শাহবাজপুর মুন্সিহাটি এলাকায় মঙ্গলবার (৮ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিনের বিরোধ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পাল্টাপাল্টি পোস্টের জেরে দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষ হয়। প্রায় দেড় ঘণ্টা স্থায়ী এই সংঘর্ষে অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।

স্থানীয় বাসিন্দা ও পুলিশ সূত্র জানায়, বিএনপি নেতা শাহীন আলমের বড় ভাই হাজি বিল্লাল মিয়ার লোকজন এবং একই এলাকার আবু আহমেদের ছেলে ইলিয়াস মিয়া ও আওলাদ হোসেনের লোকজনের মধ্যে ১ দশমিক ৮১ শতাংশ জমির মালিকানা নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে বিরোধ চলছিল। এছাড়া সরাইলের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য পদে প্রার্থী হওয়াকে কেন্দ্র করে গত কয়েকদিন ধরে উভয় পক্ষের সমর্থকরা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে উত্তেজনাপূর্ণ পোস্ট শেয়ার করছিলেন। সকালে সেই উত্তেজনার অবসান না ঘটে উভয় পক্ষ দেশীয় অস্ত্রশস্ত্র নিয়ে মুখোমুখি হলে সংঘর্ষ শুরু হয়। এতে বর্তমান ইউপি সদস্য মালেক মিয়াসহ উভয় পক্ষের অন্তত ১৫ জন আহত হন। আহতদের সরাইল উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সসহ স্থানীয় বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি করে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।

আহত ইউপি সদস্য মালেক মিয়া অভিযোগ করে বলেন, "সকালে বিল্লাল মিয়ার লোকজন তাদের বাড়ির লোকজনের ওপর দেশীয় অস্ত্র নিয়ে অতর্কিত হামলা চালায়।"

অন্যদিকে, ইলিয়াস মিয়া বলেন, "জমি-সংক্রান্ত বিরোধের বিষয়ে তারা আইনের আশ্রয় নিয়েছেন। তাদের দাবি, বিল্লাল মিয়ার বাড়ির অংশে তাদের প্রায় চার হাত জায়গা রয়েছে।"

হাজি বিল্লাল মিয়ার ছেলে আশরাফুল আলম পাভেল বলেন, "জমি নিয়ে তাদের সঙ্গে বিরোধ রয়েছে। তবে গতকাল থেকে ফেসবুকে বিভিন্ন স্ট্যাটাস দেওয়ার পর আজ তাদের ওপর হামলা চালানো হয়েছে।"

সরাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মঞ্জুর কাদের ভূঁইয়া জানান, সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তিনি বলেন, "সংঘর্ষের খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। বর্তমানে পরিস্থিতি শান্ত রয়েছে। এ ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"