সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষকদের দাপ্তরিক কাজের চাপ কমাতে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব করেছে সরকার। পঞ্চম প্রাথমিক শিক্ষা উন্নয়ন কর্মসূচি (পিইডিপি-৫) অনুমোদনের পর এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন।

আজ মঙ্গলবার জাতীয় সংসদে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে প্রশ্নোত্তর পর্বে এই তথ্য জানান শিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ। শিক্ষামন্ত্রীর অনুপস্থিতিতে তিনি সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাব দেন।

শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে অফিস সহকারী না থাকায় শিক্ষকদের ওপর দাপ্তরিক কাজের চাপ পড়ে। এ কারণে প্রতিটি বিদ্যালয়ে একজন করে অফিস সহকারী নিয়োগের প্রস্তাব রয়েছে। পিইডিপি-৫ অনুমোদিত হলে এ প্রস্তাব বাস্তবায়ন করা হবে। মানসিক, নৈতিক ও সৃজনশীল বিকাশে দেশের সকল প্রাথমিক বিদ্যালয়ে ধর্মীয় শিক্ষা, চারুকলা ও সংগীতচর্চা বাধ্যতামূলকভাবে চালুর পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।

জুলাই গণ–অভ্যুত্থান সংক্রান্ত বিষয়গুলো আগামী ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে পাঠ্যপুস্তকে অন্তর্ভুক্ত করা হবে বলে শিক্ষামন্ত্রী জানান। সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য রোকেয়া বেগমের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, শিক্ষার্থীদের বয়স ও শ্রেণি উপযোগী করে জুলাই গণ–অভ্যুত্থানের কারণ ও ঘটনাপ্রবাহ, গণহত্যা, শহীদদের আত্মত্যাগ, নারীদের ভূমিকা এবং ঐতিহাসিক তাৎপর্য পাঠ্যপুস্তকে তুলে ধরা হবে। এ ছাড়া নবম ও দশম শ্রেণির ‘বাংলাদেশের ইতিহাস ও বিশ্বসভ্যতা’ পাঠ্যপুস্তকে আওয়ামী লীগ সরকারের শাসনামলের গুম, গণহত্যা, অর্থ পাচার, নির্বাচনব্যবস্থা ধ্বংস, পিলখানা ট্র্যাজডি, সাংবাদিক হত্যা ও গণমাধ্যমে হস্তক্ষেপের মতো বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৭ শিক্ষাবর্ষ থেকে শিক্ষার্থীরা এসব বিষয় পড়ার সুযোগ পাবেন।

মৌলভীবাজার-২ আসনের সংসদ সদস্য মো. শওকতুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এসইডিপি কর্মসূচির আওতায় দেশের সব মাদ্রাসায় ২০২৬–২৭ অর্থবছর থেকে ২০৩০–৩১ অর্থবছরের মধ্যে মিড–ডে মিল চালু করা হবে। এতে ইবতেদায়ি মাদ্রাসাও অন্তর্ভুক্ত থাকবে। নীলফামারী-৪ আসনের সংসদ সদস্য আবদুল মুনতাকিমের প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশে বর্তমানে এমপিওভুক্ত মাদ্রাসার সংখ্যা ৮ হাজার ২২৯। এর মধ্যে দাখিল মাদ্রাসা ৫ হাজার ৭৬৮টি, আলিম ১ হাজার ২৮৪, ফাজিল ৯৯৩ ও কামিল মাদ্রাসা ১৮৪টি।

সিরাজগঞ্জ-৪ আসনের সংসদ সদস্য রফিকুল ইসলাম খানের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী জানান, দেশে বর্তমানে রেজিস্টার্ড বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সংখ্যা ১ হাজার ৮৭৩। এসব বেসরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সরকারীকরণের কোনো পরিকল্পনা আপাতত সরকারের নেই। গাজীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, বর্তমানে প্রাথমিক স্তরে শিক্ষার্থী ঝরে পড়ার হার ১৬ দশমিক ২৫ শতাংশ। ঝরে পড়া রোধে স্কুল ফিডিং, উপবৃত্তি প্রদানসহ সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে। নীলফামারী-৩ আসনের সংসদ সদস্য ওবায়দুল্লাহ সালাফীর প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, দেশের সব কিন্ডারগার্টেন স্কুলকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ ও নিষ্পত্তিপ্রক্রিয়ার মাধ্যমে নিবন্ধনের আওতায় আনার কার্যক্রম চলছে। ২০২৬ সালের জুলাই পর্যন্ত ১ হাজার ৭৮৩টি কিন্ডারগার্টেন নিবন্ধনের আওতায় এসেছে।