গাড়ি ও বাড়ি ক্রয়, ব্যক্তিগত ও ক্রেডিট কার্ড ঋণ এবং বিদেশ ভ্রমণ ও চিকিৎসার জন্য ডলার খরচের সীমা ধাপে ধাপে বাড়িয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। সর্বশেষ গত রোববার বিদেশ ভ্রমণের ক্ষেত্রে বার্ষিক বৈদেশিক মুদ্রা ব্যবহারের সীমা ১২ হাজার ডলার থেকে বাড়িয়ে ১৮ হাজার ডলার করা হয়েছে। নাগরিকদের আয়ের সঙ্গে জীবনযাত্রা সামঞ্জস্য ও সহজ করার লক্ষ্যে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, যাতে দেশে ও বিদেশে ব্যয় বৃদ্ধির সুযোগ সৃষ্টি হয়। এর প্রভাবে ব্যাংকগুলোতে ঋণের চাহিদাও বেড়েছে।

ভ্রমণ সংক্রান্ত বৈদেশিক মুদ্রার প্রকৃত চাহিদা ও আন্তর্জাতিক ভ্রমণের পরিবর্তিত প্রয়োজন বিবেচনায় কেন্দ্রীয় ব্যাংক এই সিদ্ধান্ত নিয়েছে। নতুন সীমা প্রতিবছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত প্রযোজ্য হবে। এর মধ্যে প্রতিবার সর্বোচ্চ পাঁচ হাজার ডলার নগদে এবং বাকি অর্থ কার্ডে খরচ করা যাবে। ১২ বছরের কম বয়সীদের ক্ষেত্রে আগের নিয়ম বহাল থাকবে; তারা প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তিদের জন্য অনুমোদিত সীমার অর্ধেক বা ৫০ শতাংশ ব্যয় করতে পারবেন। ক্রেডিট কার্ডে সীমা বাড়ানোর পর ভ্রমণ কোটা বাড়ানো জরুরি ছিল বলে মনে করছেন ব্যাংকাররা। এ বিষয়ে সিটি ব্যাংকের ভোক্তা ঋণ বিভাগের প্রধান ও উপব্যবস্থাপনা পরিচালক অরূপ হায়দার মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "ভোক্তাদের জন্য বেশ কিছু নীতি সহজ করা হয়েছে। ফলে যাঁদের সাধ্য আছে, তাঁদের জীবনযাত্রা সহজ হয়েছে। ব্যাংকগুলোর এখন আগের চেয়ে এই খাতে বেশি ব্যবসা করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।"

ক্রেডিট কার্ডের ঋণসীমাও উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়ানো হয়েছে। এখন জামানতবিহীন ২০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ পাওয়া যাবে, যার সুদের হার সর্বোচ্চ ২৫ শতাংশ। গত মে মাসের নির্দেশনায় জামানতহীন ১০ লাখ টাকা ও জামানতের বিপরীতে ২৫ লাখ টাকার যে সীমা ছিল, তা বর্তমান নির্দেশনায় বাড়ানো হয়েছে। কার্ডধারীরা মোট সীমার সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ অর্থ নগদে উত্তোলন করতে পারবেন। এ ছাড়া গত মে ও জুনে ভোক্তা ঋণের পরিমাণ ও মেয়াদ বাড়ানো হয়েছে। ব্যাংকগুলো এখন ৪০ লাখ টাকা পর্যন্ত ঋণ দিতে পারছে, যা আগে ২০ লাখ টাকা ছিল। ঋণ প্রাপ্তি সহজ করতে ব্যক্তিগত ঋণ পরিশোধের সময় পাঁচ বছর থেকে বাড়িয়ে আট বছর করা হয়েছে, ফলে কিস্তির পরিমাণ কমে এসেছে।

ভিসা জটিলতার কারণে চিকিৎসাপ্রত্যাশীরা এখন ভারতের বিকল্প হিসেবে থাইল্যান্ড, সিঙ্গাপুর, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ইত্যাদি দেশে যাচ্ছেন। সেখানে চিকিৎসা খরচ বেশি হওয়ায় বাংলাদেশ ব্যাংক বিদেশে চিকিৎসা খরচ পাঠানোর সীমা বাড়িয়ে ১৫ হাজার ডলার করেছে। এর বেশি ডলার পাঠাতে হলে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের অনুমতি নিতে হবে। আগে অনুমতি ছাড়া ১০ হাজার মার্কিন ডলার পাঠানোর সুযোগ ছিল।

মূল্যবৃদ্ধি ও চাহিদা বিবেচনায় গাড়ি ঋণের সীমাও বাড়ানো হয়েছে। একটি গাড়ি কিনতে ব্যাংক সর্বোচ্চ ৬০ লাখ টাকা ঋণ দিতে পারবে, যা আগে ৪০ লাখ টাকা ছিল। গাড়ির দামের ওপর ভিত্তি করে ঋণের শতাংশও বাড়ানো হয়েছে। বিশেষ করে হাইব্রিড ও বৈদ্যুতিক গাড়ির জন্য ৭০ শতাংশ পর্যন্ত ঋণ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হয়েছে। অন্যান্য গাড়ির ক্ষেত্রে এই সীমা ৬০ শতাংশ করা হয়েছে, যা আগে ৫০ শতাংশ ছিল।

রাজধানীর ফ্ল্যাটের দাম ও নির্মাণ খরচের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে আবাসন ঋণের সীমা বাড়িয়ে চার কোটি টাকা করা হয়েছে। আগে সর্বোচ্চ দুই কোটি টাকা ঋণ দেওয়ার সুযোগ ছিল। নতুন নির্দেশনায় দেখা যায়, যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ শতাংশের নিচে, তারা সর্বোচ্চ ৪ কোটি টাকা পর্যন্ত আবাসন ঋণ দিতে পারবে। আর যেসব ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৫ থেকে ১০ শতাংশের মধ্যে, তারা দিতে পারবে ৩ কোটি টাকা পর্যন্ত।

বিদেশ ভ্রমণ কোটা বাড়ানোর বিষয়ে ব্র্যাক ব্যাংকের উপব্যবস্থাপনা পরিচালক ও রিটেইল ব্যাংকিং বিভাগের প্রধান মাহীয়ুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "যাঁরা বিদেশে ভ্রমণ করেন, তাঁদের জন্য এটা খুবই ভালো হয়েছে। এর ফলে গ্রাহকেরা আরও স্বচ্ছন্দে খরচ করতে পারবেন।"