রংপুর আইনজীবী সমিতিতে নবীন সদস্যদের জন্য নির্ধারিত অতিরিক্ত ভর্তি ফি এবং ভোটাধিকার ত্যাগের শর্তসাপেক্ষে মুচলেকা গ্রহণের প্রতিবাদে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন নবীন আইনজীবীরা। এই সময় আন্দোলনকারীরা সমিতির সাধারণ সম্পাদককে কিছুক্ষণের জন্য অবরুদ্ধ করে রাখেন।

সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নগরীর আদালত পাড়ায় সমিতি ভবনে এই বিক্ষোভ কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়। বার কাউন্সিলের ২৬তম ব্যাচে উত্তীর্ণ মোট ১০৮ জন নতুন আইনজীবী রংপুর সমিতিতে ভর্তির আবেদন করেন। এর মধ্যে ৪৫ জনকে সাধারণ সদস্য হিসেবে গ্রহণ করলেও বাকি ৬৩ জনকে ‘সহযোগী সদস্য’ হিসেবে ভর্তির সিদ্ধান্ত নেয় সমিতি। এর আগে ভর্তি ফি ছিল ৫০ হাজার টাকা, যা এখন বয়সভেদে ১ লাখ থেকে ৫ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ানো হয়েছে। পাশাপাশি, ৩৫ বছরের বেশি বয়সি নতুন আইনজীবীদের কাছ থেকে নোটারি করা স্ট্যাম্পে ভবিষ্যতে কখনো ভোটাধিকারের দাবি না করার শর্তে মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

প্রতিবাদে অংশ নেওয়া আইনজীবী আসমিন ফারহা আঁখি বলেন, "আইনজীবীরা যেখানে আইনের চর্চা করেন, সেখানে আইনজীবী সমিতি নিজেই যদি ভোটাধিকার হরণের মুচলেকা নেয়, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। সমিতিতে নতুন আইনজীবী অন্তর্ভুক্ত করার এই সকল কালাকানুন বাতিল করা না হলে দুর্বার আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"

আরেক আইনজীবী আরিফুর রহমান জানান, "বিষ্যতে কখনো ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবেন না এ ধরনের মুচলেকা নেওয়া হচ্ছে, যা বাংলাদেশের কোনো আইনজীবী সমিতিতে নেই। অবিলম্বে মুচলেকা নেওয়া বন্ধ, কালাকানুন বাতিল এবং ভর্তি ফি কমানো না হলে কঠোর আন্দোলন গড়ে তোলা হবে।"

অন্য এক নবীন আইনজীবী বিকাশ চন্দ্র রায় জানান, "মঙ্গলবার আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আমাদের অতিরিক্ত ভর্তি ফি এবং মুচলেকা ছাড়া ভর্তি হওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। কোনো কারণে এটি বাস্তবায়ন করা না হলে আমরা আমরণ অনশনে যাব।"

বিষয়টি নিয়ে রংপুর আইনজীবী সমিতির সাধারণ সম্পাদক আফতাব হোসেন বলেন, "সমিতিতে বর্তমানে কার্যকর নিয়মগুলো ২০০৩ সালে প্রণীত। সে অনুযায়ীই পরিচালনা করা হচ্ছিল। নবীন আইনজীবীদের আপত্তির প্রেক্ষিতে তাদের অতিরিক্ত ভর্তি ফি ছাড়া নিবন্ধনের আশ্বাস দেওয়া হয়েছে। এছাড়া মুচলেকা ও অন্যান্য দাবির বিষয়ে শুধু আমাকে নয়, সমিতিকেও অবহিত করার কথা বলেছি।"