পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন বাংলাদেশে নিযুক্ত সুইজারল্যান্ডের রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি।

সাক্ষাৎকালে রাষ্ট্রদূত রেটো রেংগলি পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হিসেবে নতুন দায়িত্ব গ্রহণ উপলক্ষে হুমায়ুন কবিরকে অভিনন্দন জানান। তিনি বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক ভবিষ্যতে আরও শক্তিশালী হবে বলে আশাবাদ প্রকাশ করেন।

বৈঠকে উভয় দেশের দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের বিভিন্ন দিক নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়। বিশেষ করে বাংলাদেশের সম্ভাবনাময় খাতগুলোতে সুইস বিনিয়োগ বৃদ্ধির ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। এ সময় উভয় পক্ষ একমত হন যে, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব বাংলাদেশ ও সুইজারল্যান্ডের কূটনৈতিক সম্পর্কের অন্যতম প্রধান ভিত্তি। কর্মশক্তির দক্ষতা বৃদ্ধিতে কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের সুযোগ সম্প্রসারণে বাস্তবমুখী পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়েও বৈঠকে সম্মতি দেখা যায়।

রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিক এবং জনগণের মধ্যে পারস্পরিক সম্পর্ক জোরদারে নিয়মিত যোগাযোগের গুরুত্ব তুলে ধরেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। অন্যদিকে, সুইজারল্যান্ডের রাজধানী বার্নে বাংলাদেশের নতুন দূতাবাস পুরোদমে চালু হলে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও গভীর ও বহুমাত্রিক হবে বলে আশা ব্যক্ত করেন সুইস রাষ্ট্রদূত।

গণতন্ত্র, মানবাধিকার, বহুপক্ষীয়তাবাদ, আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধা এবং নিয়মভিত্তিক আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার মতো অভিন্ন মূল্যবোধে উভয় দেশের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত হয়। এসব মূল্যবোধ রক্ষায় আন্তর্জাতিক ও বহুপক্ষীয় ফোরামগুলোতে একসাথে কাজ করার প্রতিশ্রুতিও দেওয়া হয়।

বাংলাদেশে বিপুলসংখ্যক রোহিঙ্গাকে আশ্রয় দেওয়ার ক্ষেত্রে সরকারের মানবিক উদারতার ভূয়সী প্রশংসা করেন সুইস রাষ্ট্রদূত। তিনি রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে স্বেচ্ছায়, নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসনে সুইজারল্যান্ডের অব্যাহত সমর্থনের কথা পুনর্ব্যক্ত করেন। রোহিঙ্গা সংকটের দীর্ঘমেয়াদি ও স্থায়ী সমাধানে আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টায় সুইজারল্যান্ড পাশে থাকবে বলেও তিনি জানান।