দিনাজপুরের বিরামপুর সীমান্তে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) ২০ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করলেও বিজিবি ও স্থানীয় গ্রামবাসীর দ্রুত ব্যবস্থায় সেই প্রচেষ্টা ব্যর্থ হয়েছে। ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় সতর্কতা জোরদার করা হয়েছে।
রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) দিবাগত রাতে বিরামপুর উপজেলার কাটলা ইউনিয়নের দাউদপুর বিওপির আওতাধীন গোবিন্দপুর সীমান্তের ২৮৯/৪৬ এস পিলার সংলগ্ন এলাকায় এই ঘটনা ঘটে। সূত্র জানায়, রাতে বিএসএফ সদস্যরা ভারতের কাঁটাতারের বেড়া অতিক্রম করে কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশ করানোর চেষ্টা করেন। বিষয়টি টের পেয়ে স্থানীয় বাসিন্দারা চিৎকার করে সতর্ক করেন। পরে বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছালে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হন।
স্থানীয় বাসিন্দা সাহেব আলী বলেন, "প্রথমবার ব্যর্থ হওয়ার কিছুক্ষণ পর পাশের আরেকটি এলাকা দিয়েও তাদের বাংলাদেশে ঢোকানোর চেষ্টা করা হয়। সেখানেও তারা বাধা দিলে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নিয়ে যায়।"
স্থানীয় বাসিন্দা জাহেনুর বলেন, "রাতে বাড়ির পাশের মাঠে দাঁড়িয়ে ছিলাম। এ সময় কয়েকজন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশের চেষ্টা করতে দেখি। আমি চিৎকার করলে পোস্টে থাকা বিজিবি সদস্য ও গ্রামবাসীরা দ্রুত সেখানে উপস্থিত হন। পরে বিএসএফ সদস্যরা তাদের ফিরিয়ে নিতে বাধ্য হয়।"
শূন্যরেখার কাছে বসবাসকারী ভারতীয় নাগরিক নুর ইসলাম জানান, তিনি প্রায় ২০ জনকে দেখতে পেয়েছেন। তাদের মধ্যে চারজন নারীও ছিলেন। তাদের সঙ্গে বিএসএফ ও ভারতীয় পুলিশের কয়েকজন সদস্যও উপস্থিত ছিলেন। রাত ১টার দিকে ওই ব্যক্তিদের ভারতের কাঁটাতারের বেড়ার ভেতরে ফিরে যেতে দেখা যায় বলে জানান তিনি।
দাউদপুর বিওপির ক্যাম্প কমান্ডার নায়েব সুবেদার মাহাবুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "পুশইনের চেষ্টা আমরা প্রতিহত করেছি। স্থানীয় গ্রামবাসীরাও আমাদের সহযোগিতা করেছেন। বিজিবির পাশাপাশি গ্রামবাসীরাও নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় পাহারায় সহযোগিতা করছেন। পুশইন ঠেকাতে আমরা সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছি।"
বিরামপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) শামীম আল মামুন জানান, "বিজিবির পাশাপাশি তারা ও গ্রামবাসীরা নিজ উদ্যোগে সীমান্ত এলাকায় নজরদারি করছেন। পুশইন ঠেকাতে সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থান নেওয়া হয়েছে।"
ঘটনার পর থেকে সীমান্ত এলাকায় বিজিবির পাশাপাশি স্থানীয় বাসিন্দারাও সতর্ক অবস্থানে রয়েছেন। স্থানীয় পুরুষদের পাশাপাশি নারীরাও লাঠিসোটা হাতে গ্রামের বিভিন্ন স্থানে পাহারারত অবস্থায় রয়েছেন। বিজিবিও সীমান্তজুড়ে অতিরিক্ত টহল বাড়িয়েছে।