সাতক্ষীরায় দৈনিক সাতনদীর সম্পাদক ও প্রকাশক হাবিবুর রহমানের ওপর হামলার অভিযোগ উঠেছে। সাতক্ষীরা জেলা রিপোর্টার্স ইউনিটির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্বপালনকারী হাবিবুর রহমান রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) সকালে সাতক্ষীরা সদর থানায় একটি এজাহার দায়ের করেন। এজাহারে অভিযোগ করা হয়েছে, শ্যামনগর উপজেলার চকবড়া গ্রামের খবির গাজীর ছেলে হাফিজসহ অজ্ঞাতনামা আরও দুই থেকে তিনজন তাকে মারধর, গলা চেপে ধরার চেষ্টা এবং হত্যার হুমকি দিয়েছিল।

এজাহার অনুযায়ী, হাফিজ তার দূরসম্পর্কের আত্মীয়ের জামাতা মো. নাসির উদ্দিনের বিরুদ্ধে সংবাদ প্রকাশের জেরে বেশ কিছুদিন ধরে হাবিবুর রহমানকে হুমকি দিয়ে আসছিলেন। রোববার বেলা পৌনে দুইটার দিকে ব্যবসায়িক ট্রেড লাইসেন্স নবায়নের জন্য পৌরসভায় যাওয়ার সময় পৌরসভার ফটকের কাছে হাফিজ ও তার সহযোগীরা তাকে পথরোধ করেন। এ সময় হাফিজ তাকে উদ্দেশ্য করে বলেন, "আমার বোনের জামাইয়ের বিরুদ্ধে তুই নিউজ করেছিস। আজ তোকে জীবনে শেষ করে দেব।"

এরপর পৌরসভার ভেতরে প্রবেশ করলে বেলা দুইটার দিকে লাইসেন্স শাখার ১১৪ নম্বর কক্ষে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে কথা বলার সময় হাফিজসহ অজ্ঞাতনামা দুই থেকে তিনজন সেখানে ঢুকে গালিগালাজ শুরু করেন। একপর্যায়ে হাফিজ হাবিবুর রহমানের জামার কলার ধরে টানাহেঁচড়া করেন এবং মুখে ঘুষি মারেন, যার ফলে তার মুখে রক্তাক্ত জখম হয়। পরবর্তীতে ঘাড়ে ঘুষি মারা, গলা চেপে ধরে শ্বাসরোধের চেষ্টা এবং বাঁ বুকে তিন থেকে চারটি ঘুষি মারা হয়। পাশের ব্যক্তিরাও তাকে কিল-ঘুষি ও লাথি মারেন বলে অভিযোগ উঠেছে।

এই সময়ে লাইসেন্স শাখার কর্মকর্তা রায়হান আহমেদ ও জুলহাস উদ্দিনসহ অন্যরা তাকে হামলাকারীদের হাত থেকে উদ্ধার করেন। আবদুল্লাহ আল মাসুদ নামের এক ব্যক্তি ঘটনাটি দৃষ্টিগোচর করেন বলে এজাহারে উল্লেখ করা হয়েছে। হামলার পরও হাফিজ ও তার সহযোগীরা মামলা করলে বা আবার কোনো সংবাদ প্রকাশ করলে তাকে হত্যা, গুরুতর জখম, অপহরণ করে গুম এবং প্রকাশ্যে অপমান করার হুমকি দিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

হামলার পর হাবিবুর রহমান জরুরি সহায়তার জন্য ৯৯৯ নম্বরে ফোন করেন। স্থানীয়দের সহযোগিতায় সাতক্ষীরা সদর হাসপাতালে গিয়ে চিকিৎসা নেন। শারীরিকভাবে কিছুটা সুস্থ হওয়ার পর তিনি থানায় এজাহার দেন।

দৈনিক সাতনদী সূত্রে জানা যায়, পত্রিকাটিতে ২০২৪ ও ২০২৫ সালে শ্যামনগরের দাতভাঙা কলেজের বিভিন্ন অনিয়ম ও দুর্নীতি নিয়ে একাধিক প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। এসব প্রতিবেদনের সূত্র ধরে নাসির উদ্দিনকে নিয়েও সংবাদ প্রকাশ করা হয়। হাবিবুর রহমানের অভিযোগ, ওই সংবাদ প্রকাশের জেরেই হাফিজ তার ওপর ক্ষুব্ধ হন এবং তাকে বিভিন্ন সময় ভয়ভীতি দেখিয়ে আসছিলেন।

সাতক্ষীরা সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাহমুদুর রহমান বলেন, "বিষয়টি সম্পর্কে আমি অবগত নই। খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"