সিলেটের জকিগঞ্জ উপজেলার বারহাল ইউনিয়নের বুরহানপুর গ্রামে নিজ ঘর থেকে চার বছরের শিশুসন্তানসহ এক গর্ভবতী নারীর ঝুলন্ত লাশ উদ্ধার করেছে পুলিশ। শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাতে উপজেলার বুরহানপুর গ্রামের দাশপাড়ায় একটি ঘরের ফ্যানের সঙ্গে একই রশিতে তাদের লাশ ঝুলতে দেখা যায়।

নিহত নারী চম্পা রাণী দাশ (৩৫) শাহগলী বাজারের জুয়েলারি ব্যবসায়ী প্রদ্যুৎ দাস রতনের স্ত্রী। অন্য নিহত হলেন তাদের ছোট মেয়ে হৃদি দাশ (৪)। স্থানীয় ও পুলিশ সূত্রে জানা যায়, প্রদ্যুৎ দাস রতনের বড় ভাই কয়েক বছর আগে মারা গেছেন। বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও এক মেয়ে পাশের ঘরে থাকেন। ঘটনার সময় স্বামী প্রদ্যুৎ দাস রতন দোকানে ছিলেন। শনিবার সন্ধ্যায় বড় ভাইয়ের স্ত্রী ও মেয়ে রতনের ঘরে গিয়ে চম্পা ও হৃদির ঝুলন্ত মরদেহ দেখতে পান। তখন ঘরের দরজা খোলা ছিল। খবর পেয়ে স্থানীয় লোকজন সেখানে জড়ো হন। পরে পুলিশকে জানানো হলে পুলিশ গিয়ে মরদেহ দুটি উদ্ধার করে।

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান মোস্তাক আহমদ চৌধুরী বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, "ঘটনাটি অত্যন্ত মর্মান্তিক। নারীটি গর্ভবতী ছিলেন বলে আমরা জানতে পেরেছি। কী কারণে তিনি এমন ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনও জানা যায়নি। খবর পেয়ে জকিগঞ্জ থানার পুলিশকে জানানো হয়েছে।"

এদিকে, বিকেলে সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ময়নাতদন্ত শেষে লাশ স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করে পুলিশ। অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার জন্য প্রথমে লাশ দুটি সিলেট নগরের চালিবন্দর মহাশ্মশানে নিয়ে যান নিহতের স্বজনরা। তবে হাসপাতালের কাগজপত্র ঠিকঠাক না থাকায় সেখানে অন্তষ্টিক্রিয়া হয়নি। পরে সন্ধ্যার দিকে মরদেহ দুটি অ্যাম্বুলেন্সে করে জকিগঞ্জে নিয়ে যান স্বজনরা।

চালিবন্দর শ্মশানঘাটে প্রদ্যুৎ দাস রতনের সঙ্গে কথা বলতে চাইলে তিনি বিস্তারিত কোনো বক্তব্য দিতে রাজি হননি। শুধু বলেন, ‘আমার কোনো অভিযোগ নেই। কারও প্রতি সন্দেহও নেই।’

শ্মশানঘাটে আসা বারহাল ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ডের ইউপি সদস্য মো. মিফতাউল হক বলেন, আমাদের এলাকায় পরিবারটির সুনাম রয়েছে। স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে আন্তরিকতা ছিল। তাদের কোনো ঝগড়া বা মনোমালিন্যের কথাও কেউ কখনো শুনেনি।

এ বিষয়ে জকিগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মুহাম্মদ আব্দুর রাজ্জাক মুক্তকণ্ঠকে বলেন, দুজনের মরদেহ ময়নাতদন্ত শেষে স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দায়ের করা হয়নি। অভিযোগ পেলে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।