সাংবাদিক দম্পতি সাগর ও রুনি হত্যাকাণ্ডে গ্রেপ্তার নিরাপত্তা প্রহরী এনাম আহমেদ ওরফে হুমায়ুন কবীর প্রায় সাড়ে ১৩ বছর ধরে কারাগারে আছেন। দীর্ঘদিন বন্দি থাকায় তিনি মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন বলে জানা গেছে। এই পরিস্থিতিতে তার জামিন চেয়েছেন নিহত রুনির ভাই নওশের আলম।
পিবিআইয়ের (ঢাকা মেট্রো উত্তর) সাম্প্রতিক প্রতিবেদনের বরাতে রোববার (৬ সেপ্টেম্বর) চ্যানেল২৪ অনলাইন এই তথ্য প্রকাশ করেছে। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, বহুল আলোচিত এই হত্যা মামলায় এনামের বিরুদ্ধে কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণ পাওয়া যায়নি। ফলে তার মুক্তির দাবি জানিয়েছেন পরিবারের সদস্যরা।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাতে শেরেবাংলা নগর থানাধীন ৫৮/এ/২ পশ্চিম রাজাবাজারের একটি ফ্ল্যাট থেকে সাগর ও রুনির মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এনাম আহমেদ ঐ ভবনের সিকিউরিটি গার্ড হিসেবে কাজ করতেন। পরবর্তীতে র্যাব তাকে সন্দেহভাজন আসামি হিসেবে গ্রেপ্তার করে আদালতে সোপর্দ করে। সেই দিন থেকে তিনি কারাগারেই আছেন।
বর্তমানে হাইকোর্টের নির্দেশে গঠিত টাস্কফোর্সের আওতায় পিবিআই মামলাটি তদন্ত করছে। তদন্তকারী কর্মকর্তা প্রতিবেদনে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করেছেন, "তদন্তকালীন সময়ে অদ্যাবধি এ আসামির বিরুদ্ধে এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার কোনো সাক্ষ্য-প্রমাণাদি পাওয়া যায়নি।"
গত ২২ এপ্রিল কাশিমপুর ঢাকা কেন্দ্রীয় কারাগারে এনাম আহমেদকে পুনরায় জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। এসময় তিনি কোনো প্রশ্নের সুনির্দিষ্ট জবাব দিতে পারেননি। কিছুই মনে করতে না পারা এবং এলোমেলো উত্তর দেওয়ার কারণে তাকে মানসিকভাবে ভারসাম্যহীন বলে মনে হয়েছে। কারা কর্তৃপক্ষের বরাতে প্রতিবেদনে বলা হয়, দীর্ঘদিন ধরে বন্দি থাকায় এনাম বর্তমানে মানসিক ভারসাম্যহীনতায় ভুগছেন। বর্তমানে তাকে সাধারণ কয়েদিদের থেকে আলাদা একটি ওয়ার্ডে রেখে প্রাথমিক চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে। সার্বিক দিক বিবেচনায় তার দ্রুত সুচিকিৎসা প্রয়োজন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ প্রসঙ্গে রুনির ভাই নওশের আলম বলেন, "এ ঘটনার সঙ্গে যারা জড়িত, সঠিক তদন্তের মাধ্যমে সুস্পষ্ট প্রমাণের মাধ্যমে বিচার নিশ্চিত করা হোক। এ ছাড়া কাউকে যেন কোনো প্রকার হয়রানি না করা হয়। আমরা চাই এনামুলকে জামিন দিয়ে মুক্তি দেয়া হোক, তার সুচিকিৎসার ব্যবস্থা করা হোক।"
উল্লেখ্য, ২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া বাসায় সাংবাদিক দম্পতি নৃশংসভাবে খুন হন। সাগর মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক ছিলেন। রুনি ছিলেন এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক।
এ হত্যাকাণ্ডের পর রুনির ভাই নওশের আলম বাদী হয়ে রাজধানীর শেরেবাংলা নগর থানায় মামলা করেন। প্রথমে এ মামলা তদন্ত করছিল শেরেবাংলা নগর থানার পুলিশ। ৪ দিন পর মামলার তদন্তভার ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) গোয়েন্দা বিভাগের (ডিবি) কাছে হস্তান্তর করা হয়।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়ার ৬২ দিনের মাথায় ২০১২ সালের ১৮ এপ্রিল হাইকোর্টে ব্যর্থতা স্বীকার করে ডিবি। এরপর আদালত র্যাবকে মামলাটি তদন্তের নির্দেশ দেন। তখন থেকে মামলাটির তদন্ত করছিল র্যাব। র্যাবের তদন্তকালে প্রতিবেদন জমার তারিখ পেছায় ১১২ বার। দীর্ঘ সময় পার হলেও তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে পারেনি তারা।
পরবর্তীতে এ মামলার তদন্তে চার সদস্যের টাস্কফোর্স গঠন করে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। টাস্কফোর্সকে মামলার তদন্ত ছয় মাসের মধ্যে শেষ করে হাইকোর্টে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়েছে।