চট্টগ্রামের রাউজানে সড়ক পার হওয়ার সময় একটি ইটবোঝাই ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে নুরুল ইসলাম (৫৫) নামের এক ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) সাবেক সদস্য নিহত হয়েছেন। তিনি উপজেলার বিনাজুরী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর লেলাংগাড়া গ্রামের আনজু মিয়া সারাংয়ের ছেলে। আজ রোববার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে রাউজান সদরের জলিলনগর এলাকায় চট্টগ্রাম-রাঙামাটি সড়কে এই দুর্ঘটনা ঘটে।
দুর্ঘটনার পরপরই স্থানীয় বাসিন্দারা সড়কে অবস্থান নেন। বেপরোয়া গাড়ি চলাচল বন্ধ এবং রাস্তায় নৈরাজ্য দূর করার দাবিতে তারা স্লোগান দিতে থাকেন। বিক্ষোভের কারণে দুপুর সাড়ে ১২টা থেকে বেলা দেড়টা পর্যন্ত জলিলনগর মোড় থেকে যান চলাচল সম্পূর্ণ বন্ধ ছিল, যাতে দীর্ঘ সারিবদ্ধ যানবাহন আটকা পড়ে। পরে থানা ও হাইওয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে বিক্ষুব্ধ জনতার আশ্বস্ত করলে বেলা দেড়টার পর যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, নুরুল ইসলাম ঘটনার আগে তাঁর কার্যালয় থেকে বের হয়ে সড়ক পার হচ্ছিলেন। এ সময় চট্টগ্রামমুখী দ্রুতগামী একটি ইটবোঝাই ট্রাক তাঁকে চাপা দেয়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়। নিহতের ছেলে মোহাম্মদ সামির জানান, "তাঁর বাবাকে হত্যা করা হয়েছে"। তিনি চালকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।
রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইফুল ইসলাম মুক্তকণ্ঠকে বলেন, "যে ট্রাকের চাকায় পিষ্ট হয়ে ইউনিয়ন পরিষদের সাবেক সদস্য নিহত হয়েছেন, সেটি জব্দ করা হয়েছে। তবে চালক পলাতক। ঘটনার পরপর বিক্ষুব্ধ জনতা সড়ক অবরোধ করলেও ঘণ্টাখানেকের মধ্যে আইনানুগ ব্যবস্থার আশ্বাস দিয়ে তাঁদের সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। পরবর্তী সময়ে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"
নুরুল ইসলাম বিনাজুরী ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সাবেক সদস্য ছিলেন। তিনি তিন ছেলে ও এক মেয়েসন্তানের বাবা এবং বেসরকারি একটি বিমা কোম্পানিতে চাকরি করতেন বলে জানা গেছে।