বাংলাদেশি চলচ্চিত্রের জনপ্রিয় খল চরিত্রের অভিনেতা মিশা সওদাগর। তিন যুগ ধরে তিনি পর্দায় দাপট দেখিয়ে আসছেন। বর্তমানে পরিবারসহ যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে অবস্থান করছেন তিনি। সেই টেক্সাস থেকেই বুধবার বাংলাদেশ সময় মধ্যরাতে রস+আলোর মুখোমুখি অনুষ্ঠানে যুক্ত হন মিশা। সাক্ষাৎকারটি পরিচালনা করেন মনজুর কাদের।

নায়ক হিসেবে বহুবারই বিভিন্ন মাধ্যমের সাক্ষাৎকার দিয়েছেন মিশা। এবার রস+আলোর মুখোমুখিতে অংশ নেওয়ার বিষয়ে তিনি জানান, "বাংলাদেশের সব নায়ক–নায়িকার মুখোমুখি হয়ে এখনো যেহেতু সম্মানের সাথে দাঁড়িয়ে আছি, রস+আলোর মুখোমুখি হয়েও নিজের সম্মানটা বজায় রাখতে পারব। খুবই স্বাভাবিক লাগছে, খানিকটা সাসপিশিয়াসও লাগছে!"

সাক্ষাৎকারের প্রশ্নগুলো কঠিন হতে পারে বলে সতর্ক করা হলে মিশা হাসতে হাসতে বলেন, "তিন দশকে কঠিন থেকে কঠিন সব সময় যেহেতু পার করেছি, এটা সামলানো কোনো সমস্যাই না। আমার চিন্তা, রস+আলো আমাকে সামলাতে পারবে তো!"

বড় পর্দায় তার বুদ্ধির ব্যবহার এবং ব্যক্তিগত জীবনের মানসিকতার বিষয়ে জানতে চাইলে মিশা সংলাপ ও দর্শনের মিল টেনে বলেন, "কিছু কিছু সংলাপ জীবনের দর্শন হয়ে যায়। মূল বিষয় হচ্ছে, সব পরিস্থিতিতে খাপ খাইয়ে নেওয়া, তাই ডায়ালগ হওয়া উচিত—নাম আমার লালু, ব্রেনটা বড়ই চালু, প্রয়োজনে নিজের ব্রেনকে করব মসৃণ আর ঢালু"

চলচ্চিত্রে তার জমিদার পরিবারের পটভূমি নিয়ে প্রশ্ন উঠলে মিশা স্পষ্ট করেন, "চৌদ্দপুরুষের ইতিহাস জানি না, তিনপুরুষের ইতিহাস জানি। আমার দাদা জুম্মন সওদাগর, বাবা উসমান সওদাগর, আমি মিশা সওদাগর। আমি তিন যুগ ধরে আমার সওদাগরি অক্ষুণ্ন রেখেছি।"

পছন্দের রঙ সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি ঋতুচক্রের সাথে তুলনা করে বলেন, "ঋতুভেদে যেমন মৌসুমের পরিবর্তন হয়, তেমনি আমার রংও পরিবর্তনশীল। আবহাওয়া ও ঋতু অনুযায়ী কখনো সাদা, কখনো কালো, কখনো সোনালি।"

পর্দায় সবসময় অন্যদের চেয়ে এগিয়ে থাকার চেষ্টা করেন কেন—এমন প্রশ্নের জবাবে মিশা বলেন, "পৃথিবী একটা বড় স্টেডিয়াম, এখানে মানুষ তার সর্বোচ্চ দিয়ে সামনে এগিয়ে যেতে চায়। যে সামনে থাকবে, সে-ই উত্তম। সবাই তাই নিজ নিজ চাট্টিবাট্টি গোল করে নিজের যোগ্যতায় উত্তম হতে চায়। এটাই আমার নেশা।"

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে তার উপস্থিতি নিয়ে মিমের প্রচলন বেড়েছে। এ বিষয়ে তিনি বলেন, "পৃথিবীতে মানুষ একটু বিনোদিত হতে চায় আর আমাদের চেষ্টা থাকে বিনোদিত করার। তাই আমাকে নিয়ে মিমের এত ছড়াছড়ি। চোখে পড়ে, মজাই লাগে, আমিও বিনোদিত হই।" এর মধ্যে কোন মিমটি বেশি পছন্দ জানতে চাইলে তিনি উল্লেখ করেন, "ছবির নাম, বলো না কবুল। ওখানে নায়িকাকে কাজি সাহেব কবুল বলতে বলে, কিন্তু নায়িকা দেরি করে। তখন আমি জোরে একটা ঝাড়ি দিয়ে বলি, বল কবুল। যখন কবুল বলে, তখন কাজি সাহেবকে লাথি মারি। এটাই সবচেয়ে ভাইরাল, সবচেয়ে মজার!"

পর্দার খলনায়কের মতো তিনি কি এখনও 'ধরো, মারো, ছাড়ো' নীতির পক্ষে—এমন প্রশ্নের জবাবে মিশা বলেন, "সময়ের সাথে সাথে বোধ আর বিচারের পরিবর্তন হয়। ওই সময় ডিএমসি ছিল—ধরো, মারো ছাড়ো। আর এখন আমার ডিএমসি—ডেডিকেশন, মেডিটেশন অ্যান্ড কনসেনট্রেশন।"

সাক্ষাৎকারের শেষ দিকে তাঁর সবচেয়ে পছন্দের সংলাপটি জানতে চাইলে তিনি বলেন, "পছন্দের ডায়ালগ তো অনেকগুলো, কোনটা রেখে কোনটা বলি! এ মুহূর্তে মনে পড়ছে, ‘জয়কালে ক্ষয় নাই, মরণকালে ওষুধ নাই!’" আর রস+আলোকে যদি কোনো সংলাপ নিবেদন করতে বলা হয়, তবে তিনি সন্তানকে নিয়ে বলেন, "আরিয়ান মির্জা আমার ছেলে, আমার পৃথিবী। পৃথিবীর সবখানে হাত দিলেও এই একটি জায়গায় হাত দেওয়া যাবে না। যদি হাত দেন, তাহলে আপনার এমন জায়গায় হাত দেব, আপনার অস্তিত্ব বিলীন হয়ে যাবে!"