জনভোগান্তি নিরসন ও গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোট ১১-দলীয় ঐক্য ঢাকা থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত লংমার্চ করছে। বৃহস্পতিবার ভোরে রাজধানীর মতিঝিল শাপলা চত্বরে সমাবেশ শেষে সকাল আটটার পর যাত্রা শুরু হলেও রাত আটটা পর্যন্ত অংশগ্রহণকারীরা চট্টগ্রাম শহরে পৌঁছাননি। লালদীঘির ময়দানে সমাবেশের মাধ্যমে এই লংমার্চ শেষ হবে।
সড়ক ও জনপথ (সওজ) অধিদপ্তরের তথ্য বিশ্লেষণে দেখা যায়, মুন্সীগঞ্জ ও কুমিল্লার মধ্যে অবস্থিত মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু দিয়ে লংমার্চের ৬০০-এর কিছু বেশি গাড়ি টোল পরিশোধ করে পার হয়েছে। এর মধ্যে সাড়ে পাঁচ শতাধিক গাড়ি বড় মাইক্রোবাস, বাকিগুলো জিপ, কার ও কয়েকটি বাস। মাইক্রো ও কারের টোল হার ৭০ টাকা হলেও বাসের ক্ষেত্রে তা কিছুটা বেশি। এসব মিলিয়ে সেতু দুটি থেকে মোট ৪০ হাজারের বেশি টাকা টোল আদায় হয়েছে।
প্রথমে লংমার্চে পাঁচ-ছয় হাজার গাড়ি থাকবে বলে জানালেও জ্বালানিসংকট ও মূল্যবৃদ্ধির কারণে সংখ্যা কমিয়ে এক হাজারে নামানোর কথা জানানো হয়েছিল। জামায়াতে ইসলামী ছাড়া জোটের অন্যতম শরিক জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ও আমার বাংলাদেশ পার্টি (এবি-পার্টি)। এই জোটের সূত্র জানিয়েছে, মেঘনা ও মেঘনা-গোমতী সেতু পার হওয়ার পর পথে পথে কুমিল্লা, ফেনী, নোয়াখালিসহ বিভিন্ন জেলার গাড়ি যুক্ত হয়ে লংমার্চটি চট্টগ্রামের দিকে এগিয়েছে।
শাপলা চত্বর থেকে যাত্রা শুরু করে নারায়ণগঞ্জের চিটাগাং রোডের ট্রাকস্ট্যান্ড এলাকায় প্রথম পথসভা হয়। দুপুরে কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে নূরজাহান হোটেলের পাশে দ্বিতীয় পথসভা অনুষ্ঠিত হয়। জোহরের নামাজ ও খাবারের বিরতি নিয়ে পরে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম, ফেনীর মহিপাল ও চট্টগ্রামের মিরসরাইয়ে পথসভা করা হয়। লংমার্চে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধী দলীয় নেতা শফিকুর রহমান, এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির সভাপতি অলি আহমদ, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, এবি পার্টির মজিবুর রহমান মঞ্জুসহ জোটের শীর্ষ নেতারা অংশ নিয়েছেন।
জোটের ঘোষিত ছয় দফা দাবির মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সারের সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা। টোল আদায় ও গাড়ির সংখ্যাসহ বিষয়ে নাম প্রকাশ করে সওজের কেউ বক্তব্য দিতে চাননি। তবে একাধিক কর্মকর্তা জানান, লংমার্চ নিরবচ্ছিন্নভাবে এবং টোল দিয়ে সেতু পার হয়েছে।