ভারতীয় অনূর্ধ্ব-১৯ দলের লেগ স্পিনার রোহিত যাদবকে বয়সের তথ্য জালিয়াতির দায়ে দুই বছরের জন্য সব ধরনের ক্রিকেট থেকে নিষিদ্ধ করেছে ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ড (বিসিসিআই)। কাগজে-কলমে তার জন্মসাল তিনটি—২০০৮, ২০০৯ ও ২০১০ হওয়ায় এই শাস্তি দেওয়া হয়েছে।

ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশন অব বেঙ্গল (সিএবি) খেলোয়াড়দের প্রাক-মৌসুম নথিপত্র যাচাইয়ের সময় এই গরমিলটি উদ্ঘাটন করে। পিটিআই সূত্রে জানা গেছে, রোহিত যাদবের নামে ২০০৮, ২০০৯ এবং ২০১০ সালের তিনটি ভিন্ন জন্মসনদ পাওয়া যায়।

ইন্ডিয়া টুডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আধার কার্ডের তথ্যেও মিল নেই। সিএবির নিবন্ধনে তার জন্মসাল ২০০৭ দেখানো হলেও ২০১৭ ও ২০২০ সালে হালনাগাদকৃত আধার রেকর্ডে তা ২০০৬ ছিল। পরবর্তীতে ২০২১ সালে সেটি পরিবর্তন করে ২০০৯ করা হয়।

বয়স সংক্রান্ত এতগুলো বিপরীতধর্মী তথ্য পাওয়ার পর আসন্ন অস্ট্রেলিয়া সফরের জন্য ঘোষিত ভারত অনূর্ধ্ব-১৯ দল থেকে রোহিত যাদবকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়।

রোহিত একা নন। একই ধরনের বয়সের গরমিলের কারণে সিএবি আরও ৬৪ জন ক্রিকেটারকে নিষিদ্ধ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে ২০২২ সালের অনূর্ধ্ব-১৯ বিশ্বকাপ জয়ী ভারতীয় দলের পেসার রবি কুমার। ক্রিকইনফো জানিয়েছে, রবি কুমারের ক্ষেত্রে বয়সের গরমিল ৪০ মাসের বেশি ছিল। ২০২৫-২৬ মৌসুম পর্যন্ত বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে তার সকল রেকর্ড বাতিল বলে গণ্য হবে।

বয়স জালিয়াতি রোধে অতীতে বিভিন্ন পদক্ষেপ নিয়েছে বিসিসিআই। ২০২০ সালে সংস্থাটি দায়ীদের শাস্তির পাশাপাশি সাধারণ ক্ষমার একটি পরিকল্পনা প্রস্তাব করেছিল। সেই ব্যবস্থায় নিবন্ধিত খেলোয়াড়রা স্বেচ্ছায় বয়সের গরমিল স্বীকার করে সঠিক জন্মতারিখ জমা দিলে সাময়িক বরখাস্ত এড়াতে পারতেন। তবে পরবর্তীতে নিয়ম লঙ্ঘনের প্রমাণ মিললে তাদেরও নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হতে হতো।