প্রধানমন্ত্রী ও সরকারি কর্মকর্তাদের উদ্দেশ্যে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিওতে গালিগালাজের অভিযোগে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে গ্রেপ্তার হয়েছেন আদমজী ক্যান্টনমেন্ট কলেজের ছাত্র সিফাত আব্দুল্লাহ (২৫)। এই গ্রেপ্তার প্রসঙ্গে এনসিপির সাবেক সিনিয়র যুগ্ম সদস্য সচিব ডা. তাসনিম জারা প্রশ্ন তুলেছেন, গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) দুপুরে গাছা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) গোলাম রাব্বানী বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) রাতে গাজীপুরের নিজ বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি মিনিটের ভিডিওতে সিফাত গত দুই মাসে তার বাড়ির বিদ্যুৎ বিল হিসেবে প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার টাকা আদায়ের অভিযোগ তোলেন। এ সময় তিনি আপত্তিকর ভাষা ব্যবহার করেন এবং বিএনপি সরকারের সমালোচনা করেন।
পুলিশের ওই কর্মকর্তার বরাতে ওয়াদা নামক সংবাদমাধ্যম জানায়, গ্রেপ্তারকৃত সিফাত ফ্যাসিবাদী শক্তির সঙ্গে একটি আকস্মিক মিছিল আয়োজনের চেষ্টা করছিলেন বলে মামলায় উল্লেখ রয়েছে। মামলা শেষে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে।
এদিকে, গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে শুক্রবার বিকেল ৫টা ৩৪ মিনিটে নিজ ফেসবুক পেজে একটি পোস্ট দেন ডা. তাসনিম জারা। ওই পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘সিফাতের ভাষা ভদ্র ছিল না। এটা নিয়ে তর্ক করার কিছু নাই। কিন্তু প্রশ্নটা ভদ্রতার নয়। কারণ সিফাতকে অভদ্রতার জন্য গ্রেপ্তার করা হয়নি। মামলা দেওয়া হয়েছে সন্ত্রাসবিরোধী আইনে। তাহলে গালি দেওয়া কি সন্ত্রাস?’
পোস্টে তিনি আরও লিখেছেন, ‘দেখলাম যারা এ গ্রেপ্তারের বিপক্ষে লিখছেন তাদের কমেন্টবক্সে গালির বন্যা। সঙ্গে বলছেন যে, ছেলেটা গালি দিয়েছে, তাই ধরা ঠিক হয়েছে। আয়রনি হলো, তারা নিজেরাই গালি দিয়ে সেটা বলছেন এবং তাদের কোনো ভয় নাই। কারণ তারা জানেন গালিটা তারা কাকে দিচ্ছেন, আর কাকে দিচ্ছেন না। অর্থাৎ ক্ষমতাসীন কাউকে গালি দিলে সেটা অপরাধ, ক্ষমতায় না থাকা কাউকে দিলে সেটা গ্রহণযোগ্য।’
সরকারের সমালোচনা করে জারা লিখেছেন, “আপনারা একটা তালিকা করে দিন। কী কী লিখলে, কী কী আঁকলে, বিলের কাগজ হাতে নিয়ে কী কী বললে রাত সাড়ে ৮টায় দরজায় পুলিশ আসবে না। লিখে দিন। আমরা মেনে চলব। আর যদি তালিকা দিতে অস্বস্তি হয়, ‘দ্য ডিক্টেটর’ সিনেমার আলাদিনের আচরণের মতো মনে হয়, তাহলে নিজেদের সংযত করুন।”
পোস্টের শেষে তিনি দাবি জানান, ‘সিফাতকে অবিলম্বে মুক্তি দিন। মামলা প্রত্যাহার করুন। আর সন্ত্রাসবিরোধী আইনের যে ধারাগুলো কথা বলার বিরুদ্ধে ব্যবহার করা যায়, সেগুলো সংশোধন করুন।’