কারিগরি পেশাজীবীদের সংগঠন কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার আলটিমেটাম দিয়েছে। বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ডের (বাপাউবো) এক উপসহকারী প্রকৌশলীকে অফিসে ডেকে নিয়ে রক্তাক্ত করার প্রতিবাদে এবং হামলায় জড়িতদের গ্রেপ্তার ও বরখাস্তের দাবিতে এই সতর্কতা দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান পদক্ষেপ না নেওয়া হলে কঠোর কর্মসূচি গ্রহণের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন সংগঠনের নেতারা।

শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) সকালে গাজীপুরের পশ্চিম বুরুলিয়ায় সংগঠনটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এ আলটিমেটাম জানানো হয়। লিখিত বক্তব্যে সংগঠন জানায়, বাপাউবোর জাতীয়তাবাদী শ্রমিক-কর্মচারী ইউনিয়ন (সিবিএ-১৯০১)-এর কেন্দ্রীয় নেতাদের আগমন উপলক্ষে চাঁদা দাবি করা হয়। এতে প্রতিবাদ করায় গত ২ সেপ্টেম্বর কিশোরগঞ্জ শাখার কয়েকজন নেতাকর্মী দলবদ্ধ হয়ে উপসহকারী প্রকৌশলী মিঠুরের ওপর হামলা চালায় বলে অভিযোগ করা হয়।

সংগঠনের দাবি অনুযায়ী, হামলায় প্রকৌশলী মিঠুরের মাথায় গুরুতর আঘাত লাগে এবং তিনি রক্তাক্ত হন। এ ঘটনায় বাপাউবোর অফিস সহায়ক আবু বকর সিদ্দিক, কার্য সহকারী জাকির হোসেন ও কার্য সহকারী ইশতিয়াক আহমেদ জড়িত রয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে অভিযোগ উঠে। হামলার ঘটনার সমর্থনে আহত প্রকৌশলীর রক্তাক্ত ছবি, ভিডিও ফুটেজ, সাধারণ ডায়েরির (জিডি) কপি এবং হাসপাতালে ভর্তির কাগজপত্র সংগঠনের কাছে রয়েছে বলে জানানো হয়। এ ছাড়া বাপাউবোর বিভিন্ন দপ্তরে কর্মরত ডিপ্লোমা প্রকৌশলীদেরও নানা ধরনের হুমকি ও ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে বলে অভিযোগ করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে ডিপ্লোমা প্রকৌশলী কল্যাণ ফাউন্ডেশনের সভাপতি ইসহাক পিকু বলেন, "একজন সরকারি কর্মকর্তা দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে হামলা, চাঁদাবাজি, ভয়ভীতি বা শারীরিক নির্যাতনের শিকার হতে পারেন না। প্রকৌশলীদের নিরাপত্তা কোনো বিশেষ সুবিধা নয়, এটি নিরাপদ ও মর্যাদাপূর্ণ কর্মপরিবেশের মৌলিক অধিকার।"

সংগঠনের পক্ষ থেকে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে কার্যকর আইনগত ও প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়া, নিরপেক্ষ তদন্ত শুরু এবং আহত প্রকৌশলীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ফৌজদারি মামলা করে ১৪ দিনের মধ্যে গ্রেপ্তার এবং চাকরি থেকে বরখাস্তের দাবি জানানো হয়। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে দৃশ্যমান ও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়া হলে শান্তিপূর্ণ ও আইনানুগভাবে বৃহত্তর কর্মসূচি পালনেরও হুঁশিয়ারি দেওয়া হয়।