সুন্দর পোশাক, মার্জিত কথা কিংবা উজ্জ্বল ক্যারিয়ার থাকলেই যে একজন মানুষ ব্যক্তিত্বসম্পন্ন হয়ে ওঠেন, তা নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিত্ব মূলত গড়ে ওঠে তাঁর আচরণ ও কথা বলার ধরন অনুযায়ী। অনেক সময় আমরা অজান্তেই এমন কিছু ভুল করি, যা আমাদের ব্যক্তিত্বের ইতিবাচক প্রভাব কমিয়ে দেয়। রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতাল লিমিটেডের চিকিৎসা মনোবিজ্ঞানী শারমিন হক আলাপচারিতা ও আচরণের ক্ষেত্রে ব্যক্তিত্ব নষ্টকারী কিছু সাধারণ ভুলের কথা জানিয়েছেন।

মনোবিজ্ঞানীর মতে, অন্যের কথা বলার মাঝপথে বাধা দেওয়া ব্যক্তিত্বের জন্য ক্ষতিকর। কথাটি যত যুক্তিসংগতই হোক না কেন, অপর ব্যক্তির কথা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ধৈর্য ধরে শোনা উচিত। এরপরই নিজের মতামত দেওয়া শ্রেয়।

ব্যক্তিগত সীমানা বজায় রাখা ব্যক্তিত্বের অন্যতম প্রধান শর্ত। নিজের ব্যক্তিগত কথা সবার সামনে প্রকাশ না করা যেমন জরুরি, তেমনি অন্যের ব্যক্তিগত বিষয়ে—বিশেষ করে বিয়ে, সন্তানধারণ বা সাংসারিক বিষয়ে—অপ্রয়োজনে নাক গলানো বা মন্তব্য করা থেকে বিরত থাকতে হবে।

অনেকে কেবল নিজের কথাকে সঠিক প্রমাণ করতে গিয়ে অন্যের যুক্তি বা পরিস্থিতিকে গুরুত্ব দেন না। মনে রাখা প্রয়োজন, ভুল যে কারও হতে পারে। তবে নিজের ভুল স্বীকার না করাটা ভুল করার চেয়েও বড় ভুল। এছাড়া অন্যের খুঁত খোঁজার প্রবণতা ব্যক্তিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে। তবে পরিবার, বন্ধু বা সহকর্মীর ক্ষেত্রে আন্তরিকতার সাথে ভুল ধরিয়ে দেওয়া যেতে পারে, যেন তা কাউকে কথা শোনানোর মতো মনে না হয়।

কথোপকথনের সময় সামনের মানুষটির মানসিক পরিস্থিতি বোঝা অত্যন্ত জরুরি। বিশেষ করে কেউ বিপদে পড়লে সেই মুহূর্তে তাকে সতর্ক করার বদলে সহমর্মিতা দেখানো প্রয়োজন। কারণ ওই সময়ে সতর্কতামূলক কথা তার কষ্ট আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।

অন্যের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা ব্যক্তিত্বকে দুর্বল করে এবং ক্ষতির ঝুঁকি বাড়ায়। নিজের সিদ্ধান্ত নিজে নেওয়া এবং দায়িত্বের বিষয়ে দৃঢ় থাকা প্রয়োজন। অন্যের প্রশংসার আশায় না থেকে নিজের কাজের প্রতি আত্মবিশ্বাসী থাকা জরুরি। বারবার অন্যের কাছে নিজের কাজের সঠিকতা যাচাই করা ব্যক্তিত্বহীনতার লক্ষণ।

রাগ মানুষকে সমীহ করায় বলে অনেকে অতিরিক্ত রাগ দেখান, তবে তা ব্যক্তিত্ব নষ্ট করে। এছাড়া অহংকার, কথা না রাখা, স্বার্থপরতা, পরনিন্দা, মিথ্যা বলা, অকৃতজ্ঞতা, নিষ্ঠুরতা এবং অতিরিক্ত আত্মকেন্দ্রিকতা ব্যক্তিত্বের চরম ক্ষতি করে। সবশেষে, কাউকে অন্যের সঙ্গে তুলনা করা, কথা বলে আঘাত করা কিংবা অন্যায়ভাবে নিজের সিদ্ধান্ত অন্যের ওপর চাপিয়ে দেওয়া ব্যক্তিত্বের পরিপন্থী আচরণ।