আগামী ছয় ও সাত সেপ্টেম্বর দুই দিনের সফরে নিজ জেলা ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। গত ২০ আগস্ট সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর প্রথমবারের মতো নিজ এলাকা সফর ঘিরে শহরে উৎসবমুখর পরিবেশ বিরাজ করছে। নাগরিক সংবর্ধনা মঞ্চ তৈরি, সড়ক ও বিভাজক রঙ করা ও পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে।

সফরসূচি অনুযায়ী প্রথম দিন রাষ্ট্রপতি তাঁর পিতা-মাতার কবর জিয়ারত করবেন এবং নাগরিক সংবর্ধনায় যোগ দেবেন। দ্বিতীয় দিন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করা হবে। ঠাকুরগাঁও সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের বড় মাঠে সংবর্ধনা মঞ্চ প্রস্তুত চলছে।

শহরের বাসিন্দা বুলবুল হোসেন বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার সন্তান। তিনি রাষ্ট্রপতি হয়ে প্রথমবার ঠাকুরগাঁওয়ে আসছেন, এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত আনন্দ ও গর্বের বিষয়। তাকে স্বাগত জানাতে শহর সাজানো হচ্ছে। মানুষের মধ্যে উৎসবের আমেজ তৈরি হয়েছে।"

ব্যবসায়ী জহির ইসলাম বলেন, "রাষ্ট্রপতির আগমন উপলক্ষে শহরের চেহারা অনেকটাই বদলে যাচ্ছে। রাস্তাঘাট পরিষ্কার করা হচ্ছে। ডিভাইডার ও বিভিন্ন স্থাপনায় রঙ করা হচ্ছে। আমরা চাই, তার এই সফর শুধু উৎসবের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠুক।"

শিক্ষার্থী আয়শা আক্তার বলেন, "রাষ্ট্রপতি আমাদের জেলার মানুষ হওয়ায় আমরা গর্বিত। তার কাছে আমাদের প্রত্যাশা অনেক। বিশেষ করে শিক্ষার সুযোগ আরও বাড়ানো, উচ্চশিক্ষার সুযোগ তৈরি এবং তরুণদের জন্য কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে তিনি ভূমিকা রাখবেন বলে আমরা আশা করি।"

জব্বার আলী বলেন, "জব্বার আলী বলেন, রাষ্ট্রপতি মন্ত্রী থাকাকালীন মাত্র কয়েক মাসের মধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ের উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রেখেছেন। তার মধ্যে ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়, ঠাকুরগাঁও মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতাল, বিমানবন্দর চালুসহ আরও অনেকে উদ্যোগ নিয়েছেন। সেগুলোর কাজ চলমান আছে। তারপরও আমাদের ঠাকুরগাঁওয়ে স্বাস্থ্যসেবা ও যোগাযোগব্যবস্থার আরও উন্নয়ন প্রয়োজন। অনেক সমস্যা দীর্ঘ দিন ধরে রয়েছে। রাষ্ট্রপতির কাছে আমাদের প্রত্যাশা, তিনি এসব বিষয় গুরুত্ব দিয়ে দেখবেন এবং জেলার মানুষের দীর্ঘ দিনের সমস্যাগুলো সমাধানে উদ্যোগ নেবেন।"

নাগরিক সমাজের উদ্যোগে সংবর্ধনা আয়োজন করা হচ্ছে। নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, "নাগরিক সংবর্ধনা কমিটির আহ্বায়ক ডা. মুহাম্মদ আবু খয়রুল কবির বলেন, রাষ্ট্রপতির প্রথম সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁওয়ের মানুষের মধ্যে ব্যাপক উচ্ছ্বাস তৈরি হয়েছে। নাগরিক সমাজের উদ্যোগে তাকে সংবর্ধনা দেওয়ার আয়োজন করা হয়েছে। দল-মত নির্বিশেষে লক্ষাধিক মানুষের সমাগম হবে বলে আমরা আশা করছি। সংবর্ধনা সফল করতে আমাদের প্রস্তুতি চলছে।"

ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, "ওবায়দুল্লাহ মাসুদ বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি হওয়া এবং রাষ্ট্রপতি হিসেবে প্রথমবার নিজ জেলায় আসা আমাদের জন্য একটি ঐতিহাসিক মুহূর্ত। তার এই সফর ঘিরে ঠাকুরগাঁও, পঞ্চগড় ও দিনাজপুর অঞ্চলের মানুষ উচ্ছ্বাসে মেতে উঠেছেন।"

তিনি বলেন, "তিনি বলেন, মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাজপথ থেকে উঠে আসা একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ রাজনৈতিক ব্যক্তি। তিনি মানুষের অধিকার আদায়ে আন্দোলন-সংগ্রামে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তার মতো একজন জনবান্ধব ও স্বচ্ছ মানুষকে রাষ্ট্রপতির আসনে আসীন করা মানে সাধারণ জনগণকে মূল্যায়ন করা।"

নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে। স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ) সদস্যরা ইতোমধ্যে ঠাকুরগাঁওয়ে পৌঁছেছেন। সার্বিক বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, "সার্বিক বিষয়ে ঠাকুরগাঁওয়ের পুলিশ সুপার (এসপি) মো. বেলাল হোসেন বলেন, রাষ্ট্রপতির সফর ঘিরে জেলার বিভিন্ন সড়ক ও গুরুত্বপূর্ণ স্থানে নিরাপত্তা জোরদারের প্রক্রিয়া চলছে। রাষ্ট্রপতির অনুষ্ঠানস্থল, যাতায়াতের সড়ক ও আশপাশের এলাকায় সর্বোচ্চ নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। পুরো শহর নিরাপত্তার চাদরে ঢেকে দেওয়া হবে।"