সনাতন ধর্মাবলম্বীদের অন্যতম প্রধান ধর্মীয় উৎসব ‘শুভ জন্মাষ্টমী’ আজ শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর)। দেশব্যাপী ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, আনন্দ-উচ্ছ্বাস এবং বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে পালিত হচ্ছে এই উৎসব।
হিন্দু পৌরাণিক বিশ্বাস অনুযায়ী, দ্বাপর যুগে মথুরার কারাগারে আবির্ভূত হয়েছিলেন পূর্ণাবতার ভগবান শ্রীকৃষ্ণ। ধরণী থেকে অধর্ম ও অশুভ শক্তি বিনাশ করে সত্য, সুন্দর ও ন্যায় প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যেই তাঁর এই আবির্ভাব। সেই পবিত্র জন্মতিথিকে কেন্দ্র করেই শ্রদ্ধা ও ভালোবাসায় দিনটি উদযাপন করছেন ভক্তরা।
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে রাজধানী ঢাকাসহ সারা দেশের মন্দিরগুলোতে পূজা-অর্চনা, হরিনাম সংকীর্তন, গীতাপাঠ ও নামযজ্ঞের বিশেষ আয়োজন করা হয়েছে। মন্দিরের পাশাপাশি সনাতন ধর্মাবলম্বীরা ঘরে ঘরে উপবাস থেকে বিশেষ পূজার মাধ্যমে ভগবান শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় মগ্ন রয়েছেন। সনাতন পঞ্জিকা ও শাস্ত্রীয় মতে, আজ থেকে প্রায় সাড়ে ৫ হাজার বছর আগে ভাদ্র মাসের কৃষ্ণপক্ষের এই অষ্টম লগ্ন বা তিথিতে শ্রীকৃষ্ণের আবির্ভাব ঘটেছিল।
দিনটির অন্যতম প্রধান আকর্ষণ হিসেবে আজ বিকেল তিনটায় রাজধানীর পলাশীর মোড় থেকে ঐতিহ্যবাহী কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী শোভাযাত্রার উদ্বোধন করা হবে। প্রতিবছরের ন্যায় এই বর্ণাঢ্য মিছিলটি পুরান ঢাকার ঐতিহাসিক বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে। এছাড়া রাতে রাজধানীর ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীকৃষ্ণের মূল বিহিত পূজা।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) বাংলাদেশ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে তিন দিনব্যাপী বিশেষ কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। আজ সকালে স্বামীবাগ আশ্রমে শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মাধ্যমে তাদের কার্যক্রম শুরু হয়। দিনব্যাপী কীর্তনমেলা, শ্রীকৃষ্ণের প্রাকট্য বা আবির্ভাবের রহস্য আলোচনা এবং সন্ধ্যায় সন্ধ্যা আরতি ও শ্রীকৃষ্ণলীলামৃত পরিবেশিত হবে। রাত নয়টায় অনুষ্ঠিত হবে পরম আনন্দের মহাতেজস্বী মহাভিষেক অনুষ্ঠান।
অন্যদিকে, ঢাকার রামকৃষ্ণ মঠ ও রামকৃষ্ণ মিশনেও দিনব্যাপী নানা আয়োজন চলছে। সকালে ভক্তিমূলক শ্রীমদ্ভগবদ্গীতা পাঠের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিকতা শুরু হয়; পরবর্তীতে ভজন পরিবেশন ও ভক্তদের মাঝে মহাপ্রসাদ বিতরণ করা হয়। সন্ধ্যায় শ্রীকৃষ্ণপূজা ও শ্রীশ্যামনাম সংকীর্তনের পর রাতে অনুষ্ঠিত হবে শ্রীশ্রী মহামায়ার ঐতিহ্যবাহী কাঠামো পূজা।