বাগেরহাট সদর উপজেলার বারাকপুর থেকে ফয়লা বিমানবন্দর পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ সড়কটি প্রায় ১৫ বছর ধরে বড় ধরনের সংস্কারছাড়া থাকায় যাতায়াতকারীদের চরম ভোগান্তিতে ফেলেছে। পিচ উঠে সৃষ্ট খানাখন্দ, বর্ষায় জমে থাকা কাদা-পানি এবং শুষ্ক মৌসুমে উড়ে যাওয়া ধুলাবালির কারণে নিত্যদিন ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। এতে স্থানীয় বাসিন্দা, শিক্ষার্থী, রোগী, চালক ও যাত্রিসহ হাজারো মানুষ প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছেন।
শুধুমাত্র বারাকপুর ও ফয়লা এলাকার নয়, গিলাতলা, রামপাল ও মোংলার সাথে যাতায়াতের প্রধান এই পথটি দিয়ে প্রতিদিন শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী, কৃষক ও সাধারণ মানুষ যাতায়াত করেন। দীর্ঘদিন বেহাল অবস্থায় থাকায় স্বাভাবিক যোগাযোগব্যবস্থা ব্যাহত হওয়ায় স্থানীয়রা টেকসই সংস্কারের দাবি জানিয়েছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা আকবর আলী বলেন, "প্রায় ১৫ বছর ধরে দেখছি এই রাস্তার ঠিকমতো সংস্কার হয় না। মাঝেমধ্যে ইট-খোয়া ফেলে রেখে যায়, এই পর্যন্তই। অনেক সময় আমরা নিজেদের খরচে রাস্তার কিছু অংশ মেরামত করি। আমাদের একটাই দাবি—রাস্তাটি টেকসইভাবে সংস্কার করা হোক, যেন মানুষ সহজে চলাচল করতে পারে।"
শেখ জামাল নামের আরেক বাসিন্দা জানান, "বাগেরহাট থেকে গিলাতলা, রামপাল, মোংলা ও ফয়লায় যাওয়ার জন্য সড়কটি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু রাস্তা ভাঙা থাকার কারণে এখান দিয়ে যানবাহন চলতে চায় না। বাধ্য হয়ে অনেক সময় সাত-আট মাইল ঘুরে যেতে হয়। মাঝেমধ্যে দুর্ঘটনাও ঘটে; কিছুদিন আগে মাহেন্দ্র থেকে পড়ে গিয়ে এক যাত্রীর মাথা ফেটে যায়। আমরা দ্রুত এর সংস্কার চাই।"
এলাকার দোকানদার শফিকুল ইসলাম জানান, "বৃষ্টির সময় রাস্তার কাদা ছিটকে দোকানের ভেতর চলে আসে। আবার শুকনো মৌসুমে ধুলাবালির কারণে দোকানে বসাই কঠিন হয়ে পড়ে। দীর্ঘদিনের এই দুর্ভোগ থেকে তারা মুক্তি চান।"
পিসি কলেজের শিক্ষার্থী মরিয়ম বলেন, "এই রাস্তা দিয়েই আমাদের কলেজে যেতে হয়। কলেজের পোশাক পরে বের হলে কাদা ছিটে তা নষ্ট হয়ে যায়। হেঁটে কিংবা গাড়িতে—যেভাবেই যাই না কেন, কাদার হাত থেকে রেহাই নেই। আমরা দ্রুত রাস্তাটির সংস্কার চাই।"
ভ্যানচালক আব্দুল্লাহ্ জানান, "রাস্তার অবস্থা খারাপ হওয়ায় এখন আর যাত্রীরা ভ্যানে উঠতে চান না। খানাখন্দে ঝাঁকুনির কারণে যাত্রীদের কোমর ব্যথা হয়ে যায়। আগে যেখানে ১০-১২ বস্তা মালামাল পরিবহন করা যেত, এখন ৩-৪ বস্তার বেশি নেওয়া যায় না। গর্তে পড়ে ভ্যানের স্পোক ও বিয়ারিংসহ নানা যন্ত্রাংশ নষ্ট হওয়ায় আয়ও অনেক কমে গেছে।"
রায়হান নামের এক যাত্রী জানান, "এই রাস্তা দিয়ে চলাচল করলে শরীর অসুস্থ হয়ে পড়ে। কোনো মুমূর্ষু রোগী নিয়ে যাওয়া তো প্রায় অসম্ভব। জরুরি প্রয়োজনে বড় গাড়ি বা অ্যাম্বুলেন্সও আসতে চায় না।"
ইমন নামের স্থানীয় এক তরুণ বলেন, "দীর্ঘদিন ধরে সড়কটির এমন অবস্থা হলেও স্থায়ী সংস্কারের কোনো উদ্যোগ দেখা যাচ্ছে না। সামান্য বৃষ্টিতেই যাতায়াত অসম্ভব হয়ে পড়ে। দ্রুত পদক্ষেপ না নিলে আগামী বর্ষায় দুর্ভোগ আরও বাড়বে।"
এ বিষয়ে বাগেরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী মোহাম্মদ মঞ্জুর রশিদ বলেন, "সড়কটির বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে দেখছি। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে এটি প্রশস্থকরণ ও পূর্ণাঙ্গ সংস্কারের কাজ করা হবে।"
এলাকাবাসীর মতে, সড়কটি সংস্কার হলে বাগেরহাট সদর উপজেলার সাথে গিলাতলা, ফয়লা, রামপাল ও মোংলার যাতায়াত নিরাপদ ও সহজ হবে। এতে স্থানীয় ব্যবসা-বাণিজ্য ও কৃষিপণ্য পরিবহনেও ইতিবাচক প্রভাব পড়বে।