জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে ‘পারব না’ কথাটি বারবার ব্যবহার করলেও সাম্প্রতিক সময়ে দেশের শীর্ষ নেতাদের একই ধরনের উত্তর সাধারণ মানুষের মধ্যে নতুন প্রেরণা জাগিয়েছে। লেখক বি.স. তাঁর অভিজ্ঞতা ও রাজনৈতিক পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে এই বিষয়টি তুলে ধরেছেন।

শিক্ষাজীবন থেকে শুরু করে চাকরিজীবন পর্যন্ত ‘পারব না’ কথাটি তাঁর কাছে হয়ে উঠেছিল স্বাভাবিক। পরিবারের পক্ষ থেকে উচ্চশিক্ষা বা ভালো ফলাফলের চাপ থাকলেও তিনি বুঝতে পেরেছিলেন যে কিছু বিষয় তাঁর পক্ষে সম্ভব নয়। ফলে বাড়ি থেকে কোনো নির্দেশ বা প্রশ্ন আসলেই তিনি সরাসরি উত্তর দিতেন, “পারব না!”। পাড়ার ক্রিকেট ম্যাচে শারীরিক সীমাবদ্ধতার কারণে বল দূরে ছোঁড়া বা ছক্কা মারার চাপেও তিনি একই উত্তর দিতেন। কলেজ জীবনে সম্পর্ক গড়ে তোলার সময়ও প্রেমিকার পরিবারের মানসিকতা নিয়ে দুশ্চিন্তা থাকলে তিনি জানাতেন, “পারব না!”। চাকরির ইন্টারভিউতে কোম্পানির প্রত্যাশা এবং বেতনের প্রস্তাবের বিরোধিতা করে তিনি বলেছিলেন, “সরি স্যার, পারব না!”।

এরপর পরিবার ও আত্মীয়স্বজনদের দ্বারা ঘেরাও হন তিনি। তাদের পক্ষ থেকে বিয়ে, সন্তানাদি এবং অন্যদের সাফল্য নিয়ে বারবার প্রশ্ন করা হতো। বাবা-মা ডাকপিয়নের ভূমিকা নিয়ে এসব কথা তাঁর কাছে পৌঁছালে তিনি বিরক্তি প্রকাশ করে জিজ্ঞেস করতেন, “আরে এসব প্রশ্ন কে করে, কার এত জ্বালা!”। দীর্ঘদিন ধরে তিনিও বিশ্বাস করতেন যে জীবনে তিনি বিশেষ কিছু করতে পারবেন না। তবে সাম্প্রতিক ঘটনাগুলো তাঁর দৃষ্টিভঙ্গি বদলে দিয়েছে। তিনি লিখেছেন, “বলতে দ্বিধা নেই, এত দিন আমারও এই ধারণা ছিল। তবে এই কয়েক দিন হলো, আশার একটা ক্ষীণ আলো দেখতে পাচ্ছি।”

এই পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরের সাম্প্রতিক বক্তব্য। মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ সংক্রান্ত একটি প্রশ্নের জবাবে আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, “চাইলেই কাল সকাল থেকে বিদ্যুৎ আর গ্যাস দিতে পারব না।”। অন্যদিকে, ব্রিটিশ নাগরিকত্ব ত্যাগ নিয়ে গুঞ্জন ও প্রশ্নের জবাবে হুমায়ুন কবির কোনো ব্যাখ্যা না দিয়ে পাল্টা প্রশ্ন করেন, “কে এটা নিয়ে নিউজ করেছে, কার এত জ্বালা?”।

লেখকের মতে, এই দুটি উত্তরই তিনি জীবনজুড়ে ব্যবহার করে এসেছেন। দেশের মন্ত্রিসভার সদস্যরা যদি এমন মানসিকতা নিয়ে কাজ করেন, তবে সাধারণ মানুষও সেই পথ অনুসরণ করতে পারেন। তিনি মন্তব্য করেছেন, “গ্রেট মাইন্ডস থিংক অ্যালাইক!”। মন্ত্রীদের এই উত্তরের ধরন এবং সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনের সংযোগ স্থাপন করে তিনি উপসংহার টেনেছেন যে, তারা যদি পারেন, তবে তিনিও পারবেন।