শহরের সড়কে অটোরিকশাচালক ও বাইকচালকের মধ্যে সামান্য সংঘর্ষের পর ফেসবুক লাইভে শুরু হয় ভার্চুয়াল যুদ্ধ। ঘটনার পর অটোরিকশাচালকের ‘মাই রিকশা মাই রুল’ পেজে প্রচারিত লাইভে বাইক চালকের বিপক্ষে হাজারো সমর্থন জমে ওঠে।

প্রতিদিন অফিস থেকে ফেরার পথে সড়কে যান চলাচলের নিয়ম মেনে যাচ্ছিলেন এক বাইকচালক। হঠাৎ পেছন থেকে একটি অটোরিকশা ধাক্কা মারে। ধাক্কায় বাইক সামনে এগিয়ে গেলেও চালক কোনো ক্ষতিগ্রস্ত হননি। তবে বাইকের নাম্বারপ্লেট বেঁকে যায়। অটোরিকশাচালক হাত তুলে বলেন, ভাই, কিছু হয় নাই।

বাইকচালক প্রশ্ন করেন, কার হয় নাই, আপনার না আমার? আপনি তো আমার নাম্বারপ্লেটটা বাঁকা করে ফেললেন। এটা কিছু হয় নাই?

অটোরিকশাচালক উত্তর দেন, নাম্বার দিয়া কী হইব মামা, আমাগোও তো নাম্বার নাই। চলতাসি না? খাড়ান, ব্যাঁকাডা সুজা কইরা দেই।

বিষয়টি নিয়ে কথা বাড়তে থাকে। বাইকচালক রাগপ্রকাশ করলে অটোরিকশাচালক বলেন, মামা, গরিব মানুষ! বাইকচালক জবাব দেন, গরিব মানুষ বলে আমাকে গরিব করতে পেছন থেকে বাইকে মারবেন? অটোরিকশাচালক জানিয়ে রাখেন, ব্রেকটা মাঝেমইধ্যে কাম করে না মামা!

বাইকচালক পরিস্থিতি বুঝে ফোন বের করে ফেসবুক লাইভে যোগ দেন। তিনি ক্যামেরা ঘুরিয়ে অটোরিকশাচালককে দেখিয়ে বলেন, ‘বন্ধুরা, আপনারা দেখেন। এই ভাই পেছন থেকে এসে আমার বাইকে মেরে এখন বলছে গরিব মানুষ...’

অটোরিকশাচালক প্রশ্ন করেন, ভাই, আপনার কত ফলোয়ার? বাইকচালক জানান, ষোলো হাজার। এরপর অটোরিকশাচালক নিজের ফোন দেখিয়ে জানান, আমার ‘মাই রিকশা মাই রুল’ পেইজে ছয় লাখ। আমিও লাইভে যাই খাড়ান?

দুই মিনিটে অটোরিকশাচালকের লাইভে দর্শক সংখ্যা দাঁড়ায় চার হাজার, অন্যদিকে বাইকচালকের লাইভে ছিল মাত্র ৭৮ জন। অটোরিকশাচালক ক্যামেরার দিকে তাকিয়ে বলেন, ভাইসব, আমি গরিব মানুষ। আজকে রাস্তায় একটা বাইকওয়ালা আমাকে হেনস্তা করতাছে। এদের কারণে আমাদের রাস্তায় বেশি বেরেক মারতে হয়। এত বেরেক মারলে একটা বেরেক কাম না ও করতে পারে

কমেন্ট সেকশনে দর্শকদের সমর্থন জমা পড়ে। বাইকচালকের পরিবারের সদস্যরাও কমেন্টে অনুরূপ মন্তব্য করেন। অটোরিকশাচালক হাসিমুখে বলেন, মামা, কী করবেন তাইলে? আমার ফলোয়াররা কইতাসে দোষ আপনার!

বাইকচালক বুঝতে পারেন যে ঘটনাটি তার জন্য অনুকূল নয়। তিনি দ্রুত বাইক স্টার্ট দিয়ে সেখান থেকে সরে যান। পালানোর সময় অটোরিকশাচালক রাস্তার নিরাপত্তা বিধি সম্পর্কে কিছু পরামর্শ দেন এবং শেষ পর্যন্ত বলেন, মামা, আমার পেইজটা ফলো কইরেন!

পরদিন সকালে অফিসের পথে বের হওয়ার সময় বাইকচালক সিদ্ধান্ত নেন যে সড়কে যেকোনো সংঘর্ষের ক্ষয়ক্ষতি দেখার আগেই অটোরিকশাচালকদের ফলোয়ার সংখ্যা জিজ্ঞাসা করবেন। গত দুই বছরে শহরে অটোরিকশার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যা ট্রাফিক ব্যবস্থাপনাকে আরও জটিল করে তুলেছে।