মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পরও সময়মতো আইনসভায় (জাতীয় সংসদ) বিল না আসায় মর্মাহত হওয়ার কথা জানিয়েছেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল। তিনি বলেছেন, মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর যত দ্রুত সম্ভব বিল আইনসভায় পাঠানো উচিত। যাতে সব সংসদ সদস্য আইনটি ভালোভাবে পড়ে আসতে পারেন। এর কিছুটা ব্যত্যয় হচ্ছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

আজ বৃহস্পতিবার জাতীয় সংসদে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (এপিবিএন) বিল উত্থাপনের পর আলোচনার এক পর্যায়ে ডেপুটি স্পিকার এ কথা বলেন। তাঁর সভাপতিত্বে সংসদের অধিবেশন চলছিল।

আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার জন্য দুই কার্যদিবসের মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানোর প্রস্তাব করেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। এ নিয়ে আপত্তি জানান জামায়াতের সংসদ সদস্য নাজিবুর রহমান।

নাজিবুর রহমান বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে দেখছি সময় বেঁধে (সংসদীয় কমিটি) দেওয়া হচ্ছে। জটিল জাতীয় মানবাধিকার আইনের প্রতিবেদন দেওয়ার জন্যও দুই কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। এর মাধ্যমে কমিটিগুলোর অধিকার, প্রয়োজন হলে অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলার প্রয়োজন হলে কিংবা প্রয়োগকারী সংস্থার সঙ্গে কথা বলার এখতিয়ার কমিটির রয়েছে। তা থেকে বঞ্চিত করা হচ্ছে সংসদীয় কমিটিকে। হাত-পা বেঁধে দেওয়া হচ্ছে।’

এর জবাব দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ। তিনি বলেন, ‘৮-৯ (সেপ্টেম্বর) তারিখের মধ্যে আইনগুলো পাস করতে হবে। কার্য উপদেষ্টা কমিটির বৈঠকে এ অধিবেশনের মেয়াদ বৃদ্ধি করা হলে অন্য কথা।’

মন্ত্রী বলেন, বিলটি সব সংসদ সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে।

এরপর স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর উদ্দেশে ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল বলেন, ‘বিষয়টি আমাদের নজরে এনেছেন অনেকেই। এটা আইনসভা কিন্তু! আমাদের বিশেষ ক্ষমতা ৭৭ বিধি বারবার ব্যবহার করতে হচ্ছে। আপনি বলেছেন, সব সদস্যের কাছে পাঠানো হয়েছে, কিন্তু সবাই পায়নি।’

মন্ত্রিসভায় অনুমোদনের পর বিল সংসদে আসতে দেরি হওয়া নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করে ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘ব্যাংক রেজোল্যুশন (সংশোধন) বিল গত ১০ আগস্ট মন্ত্রিসভায় অনুমোদন হয়েছিল। এ বিলটা অনেক আগেই সংসদে আসতে পারত, মাননীয় সংসদ সদস্যরা দেখতে পারতেন, সেটাও আসেনি। এই যে গ্যাপটা হচ্ছে, মন্ত্রিপরিষদে অনুমোদনের পরে যত দ্রুত আইনসভায় পাঠানো উচিত।’

ডেপুটি স্পিকার আরও বলেন, ‘পরবর্তী সময়ে আপনারা নির্বাহী বিভাগ সতর্ক থাকবেন। যেন যথাসময়ে আইনটা সংসদে আসে, ৩৪৯ জন মাননীয় সংসদ সদস্যদের হাতে পৌঁছায়।’

সংসদীয় কমিটিতে বিল পাঠানোর বিষয়েও ডেপুটি স্পিকার বলেন, ‘সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষার জন্য পাঠান। তখন আপনারা বলেন এটা তো সংসদীয় কমিটিতে পরীক্ষার জন্য যাচ্ছে। কিন্তু পরীক্ষার জন্য তো ৩৪৯ জনের কাছে যাচ্ছে না, ১০ জন বা ১৫ জন পাচ্ছেন। আমি অনুরোধ করব, বিলগুলো যাতে যথাসময়ে আইনসভায় আসে, কারণ এটা আইনসভা।’

পরে বিলটি পরীক্ষা-নিরীক্ষার করে দুই কার্যদবিসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়–সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়েছে।