দেশে ডেঙ্গু সংক্রমণের ঊর্ধ্বমুখী ধারা অব্যাহত রয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় (বুধবার সকাল ৮টা থেকে বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা) এ রোগে আক্রান্ত হয়ে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। এ সময় নতুন করে ১ হাজার ২৫২ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এ নিয়ে চলতি বছর ডেঙ্গুতে মোট ১১১ জনের প্রাণহানি ঘটল, আর মোট ভর্তি রোগীর সংখ্যা দাঁড়াল ৩৯ হাজার ৫৩২ জনে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত ডেঙ্গু প্রতিবেদনে আজ এ তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় বিভাগভিত্তিক হিসাবে সবচেয়ে বেশি রোগী ভর্তি হয়েছে খুলনা বিভাগে—২৪৭ জন। দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে ঢাকা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকা, যেখানে ভর্তি হয়েছেন ২২৭ জন। এরপর চট্টগ্রামে ১৯৪, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে ১৩৫, বরিশালে ১১৯, রাজশাহীতে ১০৯, ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে ১০১, ময়মনসিংহে ৮৭, রংপুরে ২৭ এবং সিলেটে ৬ জন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

নিহত চারজনের মধ্যে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন এলাকার একজন, ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন এলাকার একজন, চট্টগ্রাম বিভাগের একজন এবং খুলনা বিভাগের সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার একজন বাসিন্দা রয়েছেন।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত হাসপাতালে ভর্তি হওয়া ৩৯ হাজার ৫৩২ জনের মধ্যে সুস্থ হয়ে ছাড়পত্র পেয়েছেন ৩৬ হাজার ৪৬৭ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় ১ হাজার ৩৪ জন হাসপাতাল ছেড়েছেন। বর্তমানে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন আছেন ২ হাজার ৯৫৪ জন।

ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকার হাসপাতালগুলোতে গত ২৪ ঘণ্টায় ২৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। এদের মধ্যে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত হাসপাতালে ১৫৩ জন এবং বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকে ৮৩ জন রয়েছেন।

এ বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্তদের মধ্যে পুরুষের হার বেশি। মোট রোগীর ৬২ শতাংশ পুরুষ ও ৩৮ শতাংশ নারী। তবে মৃত্যুর ক্ষেত্রে নারীদের হার বেশি—মোট নিহত ১১১ জনের মধ্যে ৬১ জনই নারী, যা ৫৫ শতাংশ; পুরুষ ৫০ জন, অর্থাৎ ৪৫ শতাংশ।

বয়সভিত্তিক বিশ্লেষণে দেখা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে সংক্রমণের প্রবণতা বেশি। ২১ থেকে ২৫ বছর বয়সী ৫ হাজার ৬৪১ জন ও ২৬ থেকে ৩০ বছর বয়সী ৫ হাজার ৬৩০ জন আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ ২১ থেকে ৩০ বছর বয়সী মোট রোগীর সংখ্যা ১১ হাজার ২৭১ জন।

চলতি বছর ঢাকার দুই সিটি করপোরেশন এলাকায় ৯ হাজার ৯০৯ জন এবং এর বাইরে সারা দেশে ২৯ হাজার ৬২৩ জন ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়েছেন। মাসভিত্তিক হিসাবে আগস্টে সর্বোচ্চ ২০ হাজার ৫৩৬ জন রোগী শনাক্ত হয়েছেন, যা এ বছরের অন্য যেকোনো মাসের চেয়ে বেশি। জুলাইয়ে আক্রান্ত হয়েছিলেন ৯ হাজার ২০৬ জন। সেপ্টেম্বরের প্রথম তিন দিনে ভর্তি হয়েছেন ৩ হাজার ৬৮৬ জন।