র্যাবের নতুন সদর দপ্তর ভবন নির্মাণের একটি প্যাকেজের কাজ ১৭২ কোটি টাকায় পেয়েছে এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি লিমিটেড। গতকাল বুধবার সচিবালয়ে অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে সরকারি ক্রয়সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে প্রস্তাবটি অনুমোদন করা হয়। বৈঠক শেষে অর্থ মন্ত্রণালয় বিষয়টি নিশ্চিত করে।
গৃহায়ণ ও গণপূর্ত মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে চলমান এই প্রকল্পের বাস্তবায়ন করছে গণপূর্ত অধিদপ্তর। সম্পূর্ণ প্রকল্পের সংশোধিত ব্যয় প্রায় ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকা হলেও, এম জামাল অ্যান্ড কোম্পানি যে চুক্তি পেয়েছেন তা কেবল সদর দপ্তর ভবনসহ সংশ্লিষ্ট অবকাঠামোর একটি নির্মাণ প্যাকেজের জন্য। ই-জিপি পদ্ধতিতে উন্মুক্ত দরপত্র আহ্বানের পর মোট ১০টি প্রতিষ্ঠান দরপত্র জমা দেয়। কারিগরি মান পূরণকারী ছয়টি দরপত্রের মধ্যে সর্বনিম্ন দরদাতা হিসেবে সুপারিশভুক্ত হয়ে এই ঠিকাদারি সংস্থাটি কাজটি পেয়েছে। দাপ্তরিক প্রাক্কলন ছিল ১৯১ কোটি ৭২ লাখ টাকা, যা থেকে নির্বাচিত প্রতিষ্ঠানের দর প্রায় ২০ কোটি টাকা কম হয়েছে।
২০১৮ সালের ৪ ফেব্রুয়ারি একনেক সভায় প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে তখন এর মোট ব্যয় ধরা হয়েছিল ৪৯৫ কোটি ৭২ লাখ টাকা। পরবর্তীতে প্রকল্পের পরিধি পরিবর্তনের কারণে বাস্তবায়ন সময়সীমা ২০১৯ সালের ১ জুলাই থেকে ২০২৮ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাড়ানো হয় এবং সংশোধিত ব্যয় ৫৪৫ কোটি ৬৫ লাখ টাকায় উন্নীত হয়।
নির্মাণাধীন ১১ তলা ভবনটি ১৫ তলা ভবনের উপযোগী ভিত্তির ওপর তৈরি হচ্ছে। ভবনে র্যাবের মহাপরিচালকের কার্যালয়সহ প্রশাসনিক বিভিন্ন শাখা স্থানান্তরের পরিকল্পনা রয়েছে। পাশাপাশি তিনটি ভূগর্ভস্থ তলা ও নিচতলায় যানবাহন পার্কিংয়ের ব্যবস্থা থাকবে। প্রকল্পের আওতায় তিনতলা অস্ত্রাগার, তিনতলা উপকেন্দ্র ভবন, গুদাম, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা, গভীর নলকূপ, জলাধার ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মাণ করা হবে। ভবনে ছয়টি লিফট, কেন্দ্রীয় শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ, স্থানীয় নেটওয়ার্ক, বায়ু চলাচলের ব্যবস্থা ও বৃষ্টির পানি সংরক্ষণের সুবিধা রাখা হবে।
এদিকে, সদর দপ্তর নির্মাণের কাজ এগিয়ে থাকাকালীন বাহিনীটির কাঠামোগত পরিবর্তন নিয়ে সরকার সিদ্ধান্ত নিয়েছে। গত ১৭ আগস্ট প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বৈঠকে স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) আইনের খসড়া অনুমোদন করেছে মন্ত্রিসভা। এর মাধ্যমে বিদ্যমান র্যাবের পরিবর্তে পুলিশ বাহিনীর আওতায় এসআরবি নামে নতুন বিশেষায়িত ইউনিট গঠনের বিধান করা হয়েছে।