পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন ও প্রতিষ্ঠিত কোম্পানিগুলোকে দ্রুত তালিকাভুক্ত করার লক্ষ্যে বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) সরাসরি তালিকাভুক্তির নতুন বিধিমালার খসড়া প্রণয়ন করেছে। এই পদক্ষেপটিকে বিনিয়োগকারী ও ব্যবসায়ী মহলে ইতিবাচকভাবে দেখা হচ্ছে। ভারতীয় শেয়ারবাজারে ‘অফার ফর সেলসহ’ বিভিন্ন মাধ্যমে বড় কোম্পানিগুলো কীভাবে বাজারে যুক্ত হয়, তার অনুরূপ একটি কাঠামো এখানেও গড়ে তোলা হচ্ছে।
এই নতুন ব্যবস্থায় উদ্যোক্তারা তাঁদের হাতে থাকা শেয়ারের একটি অংশ বিক্রি করে যে অর্থ অর্জন করবেন, তা দিয়ে তারা নতুন ব্যবসা সম্প্রসারণ বা নতুন উদ্যোগে বিনিয়োগ করতে পারবেন। এসব উদ্যোগ ভবিষ্যতে আবার পুঁজিবাজারে আসার সুযোগ পাবে, যা দেশি ও বিদেশি উভয় ধরনের বিনিয়োগকারীদের জন্য আকর্ষণীয় হয়ে উঠবে। দীর্ঘদিন ধরে আইপিও প্রক্রিয়ায় দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক প্রতিষ্ঠান বাজারে আসতে দ্বিধা বোধ করতেন। অন্যদিকে, যাদের তাৎক্ষণিক মূলধনের প্রয়োজন নেই বা সম্প্রসারণের পরিকল্পনা নেই, তাদের জন্য শুধু মূলধন সংগ্রহের উদ্দেশ্যে আইপিও করা জটিল ছিল। সরাসরি তালিকাভুক্তি এই সমস্যার কার্যকর সমাধান হতে পারে। বিধিমালাটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে দুই থেকে তিন মাসের মধ্যেই কোম্পানিগুলো তালিকাভুক্তির কাজ সম্পন্ন করতে পারবে বলে আশাবাদী বিশেষজ্ঞরা। এরই মধ্যে বেশ কিছু প্রতিষ্ঠান আগ্রহ প্রকাশ করেছে।
নতুন বিধিমালা অনুযায়ী সাত ধরনের কোম্পানির জন্য সরাসরি তালিকাভুক্তির সুযোগ রাখা হয়েছে। সরকারের সম্পূর্ণ বা আংশিক মালিকানাধীন এবং বিদেশি মালিকানাধীন কোম্পানিগুলোর ক্ষেত্রে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। দেশীয় কোম্পানির ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট শর্ত সাপেক্ষে বড় ও মানসম্পন্ন প্রতিষ্ঠানগুলো এ সুযোগ পাবে। বর্তমান বাজারের চাহিদা ও বাস্তবতা বিবেচনা করে এই শর্তগুলো যৌক্তিক বলে মনে করা হচ্ছে। সরাসরি তালিকাভুক্তির মাধ্যমে উদ্যোক্তারা শেয়ার বিক্রয়ে প্রাপ্ত অর্থ সরাসরি তাঁদের হিসাবে পাবেন। পাশাপাশি, কোম্পানি তালিকাভুক্ত হওয়ার ফলে প্রচলিত আইনের আওতায় কর সুবিধা পাওয়ার সুযোগ তৈরি হবে, যা বিনিয়োগ আকর্ষণে সহায়ক হবে।
শান্তা ইকুইটির সিইও রুবাইয়াত ই ফেরদৌস বিষয়টি নিয়ে বলেন, আমরা দীর্ঘদিন ধরে শেয়ারবাজারে কোম্পানি তালিকাভুক্তির প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত। সেই অভিজ্ঞতায় দেখেছি প্রাথমিক গণপ্রস্তাব বা আইপিও প্রক্রিয়ার দীর্ঘসূত্রতার কারণে অনেক কোম্পানি বাজারে আসতে আগ্রহী হয় না। তিনি আরও যোগ করেন, সরাসরি তালিকাভুক্তি এ ক্ষেত্রে একটি কার্যকর বিকল্প হতে পারে। প্রক্রিয়াটি যথাযথভাবে বাস্তবায়িত হলে তুলনামূলক কম সময়ে একটি কোম্পানির তালিকাভুক্তি সম্ভব হতে পারে।
বিএসইসির খসড়া বিধিমালায় প্রয়োজন অনুযায়ী নির্দিষ্ট শর্তে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতাও কমিশনকে দেওয়া হয়েছে। রুবাইয়াত ই ফেরদৌসের মতে, দক্ষ ব্যবস্থাপনা, সুপরিচিত ব্র্যান্ড, সুনাম ও সুশাসন রয়েছে এমন কোম্পানিগুলোকে প্রয়োজনবোধে কিছু শর্তে ছাড় দিয়ে পুঁজিবাজারে আনার সুযোগ থাকা উচিত। নতুন বিধিমালা চূড়ান্ত হলে ব্যাংক, বিমা ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানসহ টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি খাতের সরকারি লাইসেন্সপ্রাপ্ত কোম্পানিগুলোও পুঁজিবাজারে যুক্ত হতে পারবে।
বিএসইসি মার্চেন্ট ব্যাংকসহ সংশ্লিষ্ট অংশীজনদের সাথে বৈঠক ডেকে মতামত চাচ্ছে। বৈঠকে উত্থাপিত পরামর্শগুলো বিবেচনায় নিয়ে বিধিমালাটি চূড়ান্ত করা হবে। প্রত্যাশা করা হচ্ছে, এই নতুন ব্যবস্থার মাধ্যমে পুঁজিবাজারে মানসম্পন্ন কোম্পানি যোগদানের পথ সহজ হবে। যত বেশি ভালো কোম্পানি বাজারে আসবে, বাজারের গভীরতা ও বিনিয়োগযোগ্যতা তত বাড়বে, যা বিনিয়োগকারীদের জন্য স্বস্তির খবর।