২৬ আগস্ট যথাযোগ্য ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্য, উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নানা বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে রাজশাহী ও ভোলাসহ বিভিন্ন জেলায় অবস্থিত আলোর পাঠশালায় পবিত্র ঈদে মিলাদুন্নবী (সা.) পালিত হয়েছে। এ উপলক্ষে প্রতিষ্ঠানগুলোতে সিরাতুন নবী (সা.), কিরাত, হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতা, আলোচনা সভা, পুরস্কার বিতরণী এবং বিশেষ দোয়া মাহফিলের আয়োজন করা হয়।
গোদাগাড়ী উপজেলার বাবুডাইং আলোর পাঠশালায় সকাল ১০টায় বিদ্যালয় মিলনায়তনে কিরাত ও হামদ-নাত প্রতিযোগিতার মাধ্যমে দিনব্যাপী কর্মসূচি শুরু হয়। চারটি ক্যাটাগরিতে শিক্ষার্থীরা এতে অংশ নেন। প্রধান শিক্ষক আলী উজ্জামান নূরের সভাপতিত্বে ও সহকারী শিক্ষক নয়ন আহমেদের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন সহকারী প্রধান শিক্ষক শংকর চন্দ্র দাস। জামিয়া সালাফিয়া নূরানী ও হাফিজিয়া মাদ্রাসার প্রধান শিক্ষক আব্দুল কুদ্দুস ও সিনিয়র শিক্ষক শিরিনা খাতুন দিবসটির তাৎপর্য তুলে ধরেন। বক্তারা মহানবী (সা.)-এর ক্ষমাশীলতা, অসাম্প্রদায়িক মনোভাব ও শান্তির বাণী স্মরণ করে তাঁর আদর্শ অনুসরণের আহ্বান জানান। শেষে বিজয়ী ২০ জন শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয় এবং আব্দুল কুদ্দুসের পরিচালনায় বিশেষ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়।
একই দিনে রাজশাহী আলোর পাঠশালায় প্রধান শিক্ষক মোসা. রেজিনা খাতুনের সভাপতিত্বে সিরাতুন নবী (সা.) ও বিশেষ আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়। শিক্ষার্থীরা কোরআন তিলাওয়াত, হামদ-নাত ও রচনা প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণ করেন। রচনা প্রতিযোগিতার বিচারক ছিলেন ক্যামিও সারফারাদ; অন্য প্রতিযোগিতার বিচার দায়িত্বে ছিলেন বিদ্যালয়ের শিক্ষকবৃন্দ। বক্তারা শিক্ষার্থীদের সত্যবাদিতা, নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা মেনে উত্তম চরিত্র গঠনের তাগিদ দেন। অনুষ্ঠানের শেষে দেশ, জাতি ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের কল্যাণ কামনা করে মোনাজাত করা হয় এবং সবাইকে মিষ্টি বিতরণ করা হয়।
অন্যদিকে ভোলার মদনপুর আলোর পাঠশালায় শিক্ষক, শিক্ষার্থী ও সংশ্লিষ্টদের অংশগ্রহণে ধর্মীয় মর্যাদায় বিশেষ আলোচনা, কিরাত ও নাতে রাসুল (সা.) প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। ছোট শিক্ষার্থীদের কণ্ঠে কোরআন তিলাওয়াত ও হামদ-নাত বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে আবেগঘন পরিবেশ সৃষ্টি করে। বক্তারা মহানবী (সা.)-এর ন্যায়, সাম্য, সততা, পিতামাতার প্রতি শ্রদ্ধা ও মানবিক মূল্যবোধ চর্চার ওপর জোর দেন। তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে, জ্ঞান ও নৈতিকতার সমন্বয়ে এই আয়োজন শিক্ষার্থীদের চরিত্র গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। পরিশেষে সমগ্র মুসলিম উম্মাহর শান্তি ও সমৃদ্ধি কামনা করে মোনাজাতের মাধ্যমে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।