মুন্সিগঞ্জের শ্রীনগর উপজেলায় বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে দুই পক্ষের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সকাল সাড়ে ১০টার দিকে উপজেলা সদরের জমজম টাওয়ার এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। আহতদের মধ্যে কয়েকজনকে স্থানীয় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং একজনকে রাজধানীর জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানে (নিটোর) ভর্তি করা হয়েছে।
সংঘর্ষের সময় পাল্টাপাল্টি ধাওয়া, মোটরসাইকেল ভাঙচুর ও ইটপাটকেল নিক্ষেপের ঘটনা ঘটে। শ্রীনগর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মিল্টন দত্তসহ উভয় পক্ষের সদস্যরা আহত হন। বিএনপির কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবকবিষয়ক সম্পাদক মীর সরফত আলী (সপু) ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক হাফিজুল ইসলাম খানের অনুসারীরা এই সংঘর্ষে জড়িত। সরফত আলীর সমর্থক কাজী শাহেদ দাবি করেন, সকাল ১০টার দিকে তারা জমজম টাওয়ারের সামনে অবস্থান করলে হাফিজুল ইসলাম খানের ৩০–৩৫ জন অনুসারী লাঠিসোঁটা ও দেশি অস্ত্র নিয়ে হামলা চালায়। এতে সুমনসহ ৮ থেকে ১০ জন আহত হন। অন্যদিকে, হাফিজুল ইসলাম খান অভিযোগ অস্বীকার করে জানান, তিনি সকাল থেকে টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে ব্যস্ত ছিলেন। বেলা ১১টার দিকে তিনি জানতে পারেন, তাঁদের লোকজন বাজারে যাওয়ার সময় সরফত আলীর অনুসারীদের হামলার শিকার হন। এতে উপজেলা যুবদলের আহ্বায়ক কমিটির সদস্য রনি, বাজারের দোকানদার তুহিনসহ পাঁচ-ছয়জন আহত হন। তিনি আরও দাবি করেন, পুলিশ বিষয়টি মীমাংসা করতে গেলে প্রতিপক্ষের লোকজন পুলিশের ওপরও হামলা চালিয়েছে।
শ্রীনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের জরুরি বিভাগের চিকিৎসক তামান্না বিনতে তাহসিন জানান, বেলা ১১টা থেকে ১টা পর্যন্ত চারজন মাথা ও শরীরে আঘাত নিয়ে চিকিৎসা নিতে আসেন। তাদের মধ্যে দুজনকে সিটি স্ক্যানের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। শ্রীনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) জুয়েল মিয়া জানান, খবর পেয়ে পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে যায় এবং দুই পক্ষকে সরিয়ে দেয়। ঘটনাস্থলে অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, এ ঘটনায় কোনো পক্ষ থানায় অভিযোগ করেনি এবং পুলিশের কোনো সদস্য আহত নেই।
মুন্সিগঞ্জ-১ (সিরাজদিখান-শ্রীনগর) আসনের নেতৃত্ব নিয়ে শ্রীনগরের বাসিন্দা সরফত আলী ও উপজেলা বিএনপির সভাপতি শহিদুল ইসলামের সঙ্গে সিরাজদিখানের বাসিন্দা সংসদ সদস্য শেখ মো. আবদুল্লাহ ও হাফিজুল ইসলামের দীর্ঘদিনের বিরোধ চলছে। গত সংসদ নির্বাচনে সরফত আলী দলীয় মনোনয়ন চাইলেও তা শেখ মো. আবদুল্লাহর হাতে যায়। এরপর থেকে দলীয় যেকোনো কর্মসূচি বিভক্ত হয়ে পালন করে আসছিল দুই পক্ষ। মীর সরফত আলীর বক্তব্য জানতে তাঁর মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগ করা হলেও তিনি সাড়া দেননি। সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে অতিরিক্ত পুলিশ ও র্যাব সদস্য মোতায়েন করা হয়।