বাংলাদেশ প্রিমিয়ার লিগের (বিপিএল) ম্যাচ ফিক্সিংয়ের অভিযোগ নিয়ে বিসিবির ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের তদন্ত প্রতিবেদনে সাবেক পরিচালক মোখলেসুর রহমান শামীমের নাম উঠে এসেছে। বিষয়টি নিশ্চিত করেছে বিসিবির একটি সূত্র।
স্বাধীন চেয়ারম্যান অ্যালেক্স মার্শালের দায়িত্বপ্রাপ্ত তদন্ত প্রতিবেদনে শামীমের পাশাপাশি আরও দুই ব্যক্তির নাম রয়েছে। তবে তাদের পরিচয় এখনো গোপন রাখা হয়েছে। বর্তমানে বোর্ডের আইনজীবীরা প্রতিবেদনটির আইনি দিকগুলো যাচাই করছেন। প্রক্রিয়া সম্পন্ন হলে বিস্তারিত বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হবে।
চলতি বছরের জানুয়ারিতে একটি ফোনালাপের ভিত্তিতে শামীমের বিরুদ্ধে ফিক্সিং সংক্রান্ত অভিযোগ উঠেছিল। এরপর তদন্তের দায়িত্ব দেওয়া হয় অ্যালেক্স মার্শালকে। তৎকালীন বিপিএল গভর্নিং কাউন্সিলের সদস্যসচিব ইফতেখার রহমান মিঠু জানিয়েছিলেন, দুর্নীতিবিরোধী কার্যক্রমের মাধ্যমে বিসিবির একজন পরিচালককে সম্পৃক্ত করে একটি ফোনালাপের তথ্য পাওয়া গেছে। তবে ওই পরিচালক ফিক্সিংয়ে জড়িত ছিলেন নাকি কোনো ধরনের চেষ্টা করেছিলেন, তদন্ত শেষ হওয়ার আগে সেটি বলা সম্ভব নয় বলেও উল্লেখ করেছিলেন তিনি।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর অডিট কমিটির চেয়ারম্যানসহ সকল দায়িত্ব থেকে স্বেচ্ছায় পদত্যাগ করেন শামীম। নিরপেক্ষ, স্বচ্ছ ও গ্রহণযোগ্য তদন্তের সুযোগ করে দিতেই এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি। দায়িত্ব ছাড়ার বিষয়টি কোনোভাবেই দায় স্বীকার নয়, এমনও উল্লেখ করেছিলেন সাবেক এই পরিচালক।
গত জুন মাসে তামিম ইকবালের নেতৃত্বে নতুন পরিচালনা পর্ষদ গঠিত হলেও তদন্ত প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকে। এরআগে ইন্টেগ্রিটি ইউনিটের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে বিপিএল দুর্নীতি মামলায় চারজনকে সাময়িকভাবে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তারা হলেন দলীয় ব্যবস্থাপক মো. লাবলুর রহমান ও রেজওয়ান কবির সিদ্দিকী, ফ্র্যাঞ্চাইজির সহমালিক মো. তৌহিদুল হক তৌহিদ এবং ঘরোয়া ক্রিকেটার অমিত মজুমদার। এছাড়া আলাদা তদন্তের ভিত্তিতে সামিনুর রহমানকে ক্রিকেটীয় কার্যক্রম থেকে বাদ দেওয়ার নির্দেশও দেওয়া হয়।
বিসিবি সভাপতি তামিম সম্প্রতি জানান, দুর্নীতিসংশ্লিষ্ট আরও চার থেকে পাঁচজনের নাম প্রকাশের প্রস্তুতি চলছে। আইনজীবীদের অনুমোদন পাওয়ার পর সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে নামগুলো জানানো হবে।