পদ্মা সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে বাসের ধাক্কায় সেতুর পূর্ব পাশের রেলিংয়ের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নিউ গ্রীন লাইন এক্সপ্রেসের একটি যাত্রীবাহী বাস মাগুরা থেকে ঢাকার দিকে যাচ্ছিল। বেলা ১টা ১৫ মিনিটের দিকে সেতুর মাওয়া প্রান্তের ঢালে পৌঁছালে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান।
সিসিটিভি ফুটেজে দেখা যায়, বাসটি অতিরিক্ত গতিতে ছিল। অন্য একটি বাসকে অতিক্রম করতে গিয়ে চালক নিয়ন্ত্রণ হারান। বাসটি একবার ডানে, একবার বাঁয়ে চলে যায় এবং ঢালের ওপর লম্বালম্বিভাবে পিছলে গিয়ে দুই পাশের রেলিংয়ে সজোরে ধাক্কা দেয়। পরে বাসটি উল্টে যায়। বেলা ১টা ৩৭ মিনিটের দিকে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনে খবর আসে।
খবর পেয়ে শ্রীনগর ফায়ার স্টেশনের দুটি দল ঘটনাস্থলে গিয়ে বাসের ভেতরে থাকা আটজন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে। তাদের অ্যাম্বুলেন্সে করে শ্রীনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠানো হয়। দুর্ঘটনার পর ৮ থেকে ১০ মিনিট সেতুর ওপর যান চলাচল বন্ধ ছিল। পরে এক পাশ দিয়ে যান চলাচল শুরু হয়। বেলা আড়াইটার দিকে ফায়ার সার্ভিস, সেতু কর্তৃপক্ষের টহল গাড়ি ও রেকারের সহায়তায় বাসটি সরিয়ে নেওয়া হয়। এরপর সেতুতে যান চলাচল স্বাভাবিক হয়।
দুর্ঘটনাকবলিত বাসটি বর্তমানে পদ্মা উত্তর থানায় রয়েছে। সেতু-সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, পদ্মা সেতুর নিরাপত্তায় গাড়িসহ দুটি টহল দল আছে। প্রতিটি দলে তিনজন করে সদস্য আছেন। তাঁরা সেতুর ওপর নজরদারি করেন। কোনো গাড়ি বা যাত্রীর কিছু হলে তাঁরা গাড়ি মেরামতের প্রাথমিক কাজ ও যাত্রীদের প্রাথমিক চিকিৎসা দেন।
পদ্মা সেতুর নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ মুক্তকণ্ঠকে বলেন, 'গতকাল সোমবার দুর্ঘটনার সময় বাসটি সেতুর পূর্ব ও পশ্চিম পাশের রেলিংয়ে ধাক্কা দেয়। এতে পশ্চিম পাশে তেমন কোনো ক্ষতি হয়নি। তবে পূর্ব পাশের রেলিংয়ের ব্যারিয়ারের ওপরের প্রায় ৫০ মিটার অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেতুর সড়কে কিছু দাগ পড়েছে, সেটি তেমন গুরুতর নয়। তবে বড় ধরনের দুর্ঘটনা থেকে রক্ষা পেয়েছে বাসের যাত্রী ও সেতুর অবকাঠামো।' ক্ষতিগ্রস্ত অংশ মেরামতে ছয় থেকে সাত দিন সময় লাগতে পারে। এতে ব্যয় হতে পারে দেড় থেকে দুই লাখ টাকা।
দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি থানায় হস্তান্তরের পর আইনগত ব্যবস্থা নিতে বলা হয়েছে উল্লেখ করে নির্বাহী প্রকৌশলী আবু সায়াদ বলেন, 'পুরো সেতুতে প্রায় ৪০০ মিটার পরপর ১৬টি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাসম্পন্ন ক্যামেরা আছে। এসব ক্যামেরা দিয়ে পুরো সেতু পর্যবেক্ষণ করা হয়। সেতুর ওপর যানবাহনের সর্বোচ্চ গতি ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার নির্ধারণ করা হয়েছে। এ গতিসীমা উল্লেখ করে বিভিন্ন দূরত্বে বিলবোর্ডও লাগানো হয়েছে। তবে অনেক চালক এ নির্দেশনা মানছেন না। দুর্ঘটনার সময় সেতুর ওপর থাকা যানবাহনগুলোর গতি ঘণ্টায় ১২০ থেকে ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত ছিল।'