লিওনেল মেসির দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের শেষ পর্যায়টি ছিল অভাবনীয় সাফল্যে ঘেরা। কোপা আমেরিকা থেকে বিশ্বকাপ— একের পর এক শিরোপা জয়ের ফলে বড় অঙ্কের পুরস্কারের অর্থ অর্জন করেছে আর্জেন্টিনা ফুটবল অ্যাসোসিয়েশন (এএফএ)।

স্প্যানিশ সংবাদমাধ্যম এএসের হিসাব অনুযায়ী, ২০১৯ সাল থেকে আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতার পুরস্কার হিসেবে এএফএ প্রায় ১২১ মিলিয়ন ডলার আয় করেছে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী বাংলাদেশি মুদ্রায় এই অংকটি প্রায় ১ হাজার ৪৮৭ কোটি টাকা। তবে উল্লেখ্য, এটি মেসির ব্যক্তিগত আয় নয়, বরং জাতীয় দলের সাফল্যের জন্য এএফএ-র প্রাপ্ত পুরস্কারের অর্থ। স্পনসর, সম্প্রচার, টিকিট বিক্রি কিংবা প্রীতি ম্যাচের বাণিজ্যিক আয় এই হিসাবের বাইরে। ফলে মেসির উপস্থিতিতে আর্জেন্টিনা ফুটবলের প্রকৃত আর্থিক লাভ আরও অনেক বেশি বলে ধারণা করা হয়।

লিওনেল স্কালোনির কোচিংয়ে ২০১৯ সালে ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় তৃতীয় হয়ে ৮ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৯৮ কোটি টাকা) পায় এএফএ। এরপর ২০২১ কোপা আমেরিকার ফাইনালে ব্রাজিলকে হারিয়ে শিরোপা জিতে ১০ মিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১২৩ কোটি টাকা অর্জন করে তারা।

আর্থিক প্রাপ্তির সবচেয়ে বড় অংশটি আসে ২০২২ কাতার বিশ্বকাপ থেকে। ৩৬ বছরের দীর্ঘ অপেক্ষা শেষ করে ফাইনালে ফ্রান্সকে হারিয়ে ফিফার কাছ থেকে ৪২ মিলিয়ন ডলার পায় আর্জেন্টিনা, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় ৫১৬ কোটি টাকা। এছাড়া দক্ষিণ আমেরিকান ফুটবল কনফেডারেশন কনমেবল থেকে আরও ১০ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১২৩ কোটি টাকা) বোনাস পায় এএফএ। শুধুমাত্র বিশ্বকাপ জয়ের সুবাদেই আর্জেন্টিনার মোট আয় হয়েছিল প্রায় ৬৩৯ কোটি টাকা।

সাফল্যের ধারা অব্যাহত রেখে ২০২৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রে অনুষ্ঠিত কোপা আমেরিকায় কলম্বিয়াকে হারিয়ে চ্যাম্পিয়ন হয়ে ১৬ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ১৯৭ কোটি টাকা) পায় আর্জেন্টিনা। সবশেষ ২০২৬ বিশ্বকাপে ফাইনালে উঠলেও স্পেনের কাছে ১-০ গোলে হেরে রানার্সআপ হয় তারা। রানার্সআপ হিসেবে ফিফার নির্ধারিত পুরস্কার তালিকায় ৩৩ মিলিয়ন ডলার (প্রায় ৪০৬ কোটি টাকা) পায় এএফএ।

গত ৩১ আগস্ট জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েছেন লিওনেল মেসি। আর্জেন্টিনার হয়ে ২০৭ ম্যাচে রেকর্ড ১২৫ গোলের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকা, একটি বিশ্বকাপ ও একটি ফিনালিসিমা জিতেছেন তিনি। মেসির বিদায়ের সাথে সাথে মাঠের এক যুগের পাশাপাশি আর্জেন্টিনা ফুটবলের সবচেয়ে সফল ও লাভজনক অধ্যায়েরও সমাপ্তি ঘটল।