এজবাস্টনে ৯ সেপ্টেম্বর শুরু হওয়া তৃতীয় টেস্টের আগে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড দলে অত্যন্ত ব্যাপক পরিবর্তন এনেছে। হেডিংলি ও লর্ডসে শোচনীয় পরাজয়ের পর সিরিজ ২–০ ব্যবধানে হার নিশ্চিত হওয়ার পরও নিয়ম রক্ষার ম্যাচের ঠিক আগ মুহূর্তে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। দলের প্রায় অর্ধেক খেলোয়াড়কে ছাঁটাই করা হয়েছে। মোহাম্মদ রিজওয়ান, ইমাম-উল-হক, সালমান আগা, আলী উসমান, আমের জামাল, আওয়াইস জাফর ও খুররম শাহজাদ—এই সাত ক্রিকেটারকে দল থেকে বাদ দেওয়া হয়েছে। এর বিনিময়ে আরাফাত মিনহাজ, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, সাদ বেগ, মোহাম্মদ ইমরান রান্ধাওয়া ও রাজউল্লাহ নামে পাঁচ নতুন মুখকে ডাকা হয়েছে। এছাড়া সাইম আইয়ুব ও আবদুল্লাহ ফজলকেও দলে ফেরানো হয়েছে, যাদের সম্মিলিত আন্তর্জাতিক অভিজ্ঞতা মাত্র ১০ ম্যাচ।
কোচিং প্যানেলেও বড় পরিবর্তন এসেছে। সরফরাজ আহমেদকে প্রধান কোচ এবং উমর গুলকে বোলিং কোচের পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। সীমিত ওভারের দলের প্রধান কোচ মাইক হেসন এবং বোলিং কোচ অ্যাশলে নফকে টেস্ট দলের কোচিং প্যানেলে যোগ দেওয়ার পাশাপাশি হেসন এখন টেস্ট দলের প্রধান কোচ হিসেবে দায়িত্ব পাবেন। চলতি সিরিজের আগে ব্যাটিং কোচ হিসেবে আসাদ শফিকের স্থলাভিষিক্ত হয়েছেন মাইক স্মিথ। সরফরাজের নেতৃত্বে বর্তমান কোচিং প্যানেল গত এপ্রিলে বাংলাদেশের বিপক্ষে সিরিজের ঠিক আগে নিয়োগ পায় এবং সাবেক এই পাকিস্তানি অধিনায়কের দায়িত্বে এটি তৃতীয় সিরিজ। উমর গুলের ক্ষেত্রেও বিষয়টি একই রকম।
দল পুনর্গঠনের সিদ্ধান্তে সবচেয়ে চমকপ্রদ বিষয় হলো আলী উসমানকে বাদ দেওয়া। হেডিংলিতে ইংল্যান্ডের দ্বিতীয় ইনিংসে তিনি ৫ উইকেট নিয়েছিলেন এবং ১৯৭২ সালের পর ওই ভেন্যুতে প্রথম অতিথি স্পিনার হিসেবে নজির গড়েছিলেন। তবে ব্যাটিং ফর্মের অভাবে অন্যান্যদের ছাঁটাই করা হয়েছে। লর্ডসে প্রথম দিনে বাঁ পায়ের মাংশপেশিতে গ্রেড-ওয়ান চোট পাওয়ায় দুই ইনিংসেই ব্যাট করতে পারেননি ইমাম, যিনি তীব্র সমালোচনার মুখে পড়েছিলেন। লর্ডসে তাঁর স্কোর ছিল ৭ ও ১, আর হেডিংলিতে ১২ ও ৪১। রিজওয়ানও ব্যাট হাতে সংকটে ছিলেন; লর্ডসে ৭ ও ১, হেডিংলিতে ১২ ও ৪১ রান করেছেন। এর আগে ওয়েস্ট ইন্ডিজে তিন ইনিংসে মোটে ৪১ রান করেন তিনি। মিডিয়াম পেসার মোহাম্মদ আব্বাসের বোলিংয়ে স্টাম্পের কাছে দাঁড়িয়ে অসাধারণ কিপিং করলেও ব্যাটিংয়ে তিনি সফল হননি। সালমান আগাও ধারণা করা হচ্ছে ব্যাটিং ফর্ম পড়ে যাওয়ার কারণে বাদ পড়েছেন, যদিও হেডিংলিতে তিনি ভারপ্রাপ্ত অধিনায়কের দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সাইম আইয়ুবের ক্ষেত্রে ফিটনেসই প্রধান বাধা। চলতি বছরের শুরুতে টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপের পর থেকে পাকিস্তানের জার্সিতে আর খেলেননি তিনি। ২০২৫ সালের জানুয়ারিতে খেলা শেষ টেস্টে গোড়ালিতে চোট পাওয়ার পর থেকে গত বছরের কায়েদ-এ-আজম ট্রফিতে কেবল দুটি প্রথম শ্রেণির ম্যাচ খেলেছেন আইয়ুব। পাঁচ নতুন মুখের মধ্যে শুধুমাত্র বাঁহাতি স্পিনার আরাফাত মিনহাজই এর আগে আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলেছেন। চলতি বছর মে মাসে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডেতে তাঁর অভিষেক হয় এবং স্পিন-সহায়ক উইকেটে দারুণ বোলিং করে ম্যাচসেরার পুরস্কার জেতেন।
এজবাস্টন টেস্টের জন্য ঘোষিত পাকিস্তান স্কোয়াডে রয়েছে: বাবর আজম (অধিনায়ক), আবদুল্লাহ ফজল, আরাফাত মিনহাজ, আজান আওয়াইস, মোহাম্মদ আব্বাস, মোহাম্মদ আলী, মোহাম্মদ ইমরান, মোহাম্মদ ইমরান জুনিয়র, মোহাম্মদ গাজী ঘোরী (উইকেটকিপার), রাজউল্লাহ, সাদ বেগ (উইকেটকিপার), সাইম আইয়ুব, সাজিদ খান, সৌদ শাকিল, শান মাসুদ, আবদুল্লাহ শাফিক ও উবাইদ শাহ। গত কয়েক বছরে দলে বেশ কয়েকবার বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘটনা ঘটেছে, তবে টেস্ট সিরিজের মাঝপথে এবং সেটাও সিরিজ হার নিশ্চিতের পর নিয়ম রক্ষার ম্যাচের আগে এত বড় পরিসরে দল পুনর্গঠন নজিরবিহীন বলে মনে করা হচ্ছে।