আর্জেন্টিনা জাতীয় দল থেকে অবসরের ঘোষণা দিয়েই থামেননি লিওনেল মেসি। আবেগঘন হাতে লেখা চিঠিতে দুই দশকের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানার কথা জানানোর কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আরেকটি ভিডিও প্রকাশ করেছেন আর্জেন্টাইন মহাতারকা। সেখানে ফিরে এসেছে আকাশি-সাদা জার্সিতে তার দীর্ঘ পথচলার সুখ, দুঃখ, কান্না, ব্যর্থতা আর শেষ পর্যন্ত স্বপ্নপূরণের মুহূর্তগুলো।
ভিডিওর শুরুটা মেসির তরুণ বয়সের স্মৃতি দিয়ে। সময় যত এগোয়, বদলে যেতে থাকে মেসির চেহারা, আর সঙ্গে পাল্টাতে থাকে আর্জেন্টিনার হয়ে তার গল্পও। জাতীয় দলের হয়ে শুরুর বছরগুলো, বিশ্বকাপের মঞ্চ, সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন, দর্শকদের ভালোবাসা, সবকিছুরই জায়গা হয়েছে বিদায়ী ভিডিওতে।
তবে নিজের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারকে শুধু সাফল্যের ছবিতে সাজাননি মেসি। জায়গা দিয়েছেন সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোকেও। ফাইনাল হারের হতাশা, চোখের জল এবং ট্রফির খুব কাছে গিয়েও ফিরে আসার মুহূর্তগুলোও রয়েছে ভিডিওতে। ভিডিওটি দেখার পর অনেক সমর্থকের নজর কেড়েছে বিষয়টি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেকেই বলছেন, নিজের সবচেয়ে কষ্টের স্মৃতিগুলোকেও বিদায়ের গল্পের অংশ করেছেন মেসি।
একসময় আর্জেন্টিনা জার্সিতেই মেসিকে সবচেয়ে বেশি সমালোচনা সহ্য করতে হয়েছিল। ২০১৪ বিশ্বকাপের ফাইনালে হার, এরপর ২০১৫ ও ২০১৬ সালের কোপা আমেরিকার ফাইনালের ব্যর্থতা তার আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তৈরি করেছিল দীর্ঘ হতাশার অধ্যায়।
View this post on Instagram A post shared by Leo Messi (@leomessi)
A post shared by Leo Messi (@leomessi)
কিন্তু সেই গল্প বদলে যায় ক্যারিয়ারের শেষ ভাগে। ২০২১ সালে কোপা আমেরিকার শিরোপা দিয়ে শুরু হয় মেসির বহুল প্রতীক্ষিত সাফল্যের অধ্যায়। এরপর ২০২২ সালে বিশ্বকাপ জিতে পূরণ করেন জীবনের সবচেয়ে বড় স্বপ্ন। ২০২৪ সালে আবারও কোপা আমেরিকার শিরোপা ওঠে তার হাতে।
সেসব সোনালি মুহূর্তও রয়েছে বিদায়ী ভিডিওতে। ট্রফি হাতে মেসি, সতীর্থদের সঙ্গে উদযাপন এবং আর্জেন্টিনার সমর্থকদের সঙ্গে তার আবেগের সম্পর্ক মিলিয়ে ভিডিওটি যেন দুই দশকের একটি সংক্ষিপ্ত আত্মজীবনী।
শেষের দিকের দৃশ্যগুলোতে বিশেষভাবে ফিরে আসে আর্জেন্টাইন ফুটবলের আরেক কিংবদন্তি দিয়েগো ম্যারাডোনার স্মৃতি। মেসি ও ম্যারাডোনাকে ঘিরে আর্জেন্টিনার দুটি ভিন্ন প্রজন্মের স্মরণীয় দৃশ্য দিয়ে তৈরি হয়েছে প্রতীকী এক সংযোগ। ভিডিওর সেই শেষ অংশটিই অনেক সমর্থকের কাছে সবচেয়ে আবেগের হয়ে উঠেছে।
এর আগে সোমবার হাতে লেখা তিন পাতার চিঠিতে জাতীয় দল ছাড়ার ঘোষণা দেন ৩৯ বছর বয়সী মেসি। সেখানে তিনি জানান, সিদ্ধান্তটি কষ্টের হলেও তার মনে হয়েছে বিদায়ের সময় এসেছে। মেসি লিখেছেন, ‘আমি নিজেকে নিঃশেষ করে দিয়েছি, আমার আর কিছু দেওয়ার নেই।’ পাশাপাশি নতুন প্রজন্মের খেলোয়াড়দের জায়গা করে দেওয়ার কথাও বলেন তিনি।
বিদায়ী চিঠিটি তিনি লিখেছিলেন ২১ জুলাই, ২০২৬ বিশ্বকাপ ফাইনালে স্পেনের বিপক্ষে হারের মাত্র দুই দিন পর। পরে বাবা হোর্হে মেসির মৃত্যুর পর সিদ্ধান্তটি নিয়ে আরও নিশ্চিত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন আর্জেন্টিনার সাবেক অধিনায়ক।
২০০৫ সালে আর্জেন্টিনার সিনিয়র দলে অভিষেক হয়েছিল মেসির। দীর্ঘ ২১ বছরের আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারে তিনি খেলেছেন ২০৭ ম্যাচ, করেছেন ১২৫ গোল। ২০২২ বিশ্বকাপের পাশাপাশি দুটি কোপা আমেরিকাও জিতেছেন তিনি।
চিঠিতে মেসি জানিয়েছিলেন, এখন থেকে তিনি মাঠের বাইরে বসে আর্জেন্টিনাকে সমর্থন করবেন। আর তার কিছুক্ষণ পর প্রকাশিত ভিডিও যেন সেই কথারই দৃশ্যমান বিদায়। কান্না দিয়ে যে পথের অনেকটা কেটেছিল, বিশ্বকাপ হাতে সেই পথ পূর্ণ করেছিলেন মেসি। এবার স্মৃতিগুলো একসঙ্গে রেখে আকাশি-সাদা জার্সির সঙ্গে শেষবারের মতো বিদায়টাও বলে দিলেন তিনি।