সৌদি আরবে ফাস্টফুড দোকানে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে এক ব্যক্তিকে মানবপাচার এবং পরবর্তীতে তাকে আটকে রেখে নির্যাতন ও অর্থ আদায়ের অভিযোগে চক্রের এক সদস্যকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।

রোববার (৩০ আগস্ট) দুপুরে রাজধানীর হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর এলাকা থেকে সিআইডির মানবপাচার ইউনিটের এক অভিযানে মো. সালমান হোসেন (৩৩) নামের ওই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়। তিনি সাতক্ষীরা জেলার কালিগঞ্জ উপজেলার শংকরপুর (গাইনপাড়া) গ্রামের বাসিন্দা।

সোমবার (৩১ আগস্ট) সিআইডি সূত্রে জানা গেছে, সৌদি আরবে ভালো চাকরির প্রতিশ্রুতি দিয়ে ভুক্তভোগীর কাছ থেকে ছয় লাখ টাকা হাতিয়ে নেয় ওই চক্র। এরপর ২০২৫ সালের ৭ জুন তাকে সৌদি আরবে পাঠানো হলেও প্রতিশ্রুত চাকরিতে নিয়োগ দেওয়া হয়নি। উল্টো তাকে একটি বাসায় আটকে রেখে আকামা করে দেওয়ার কথা বলে পরিবারের কাছে আরও টাকা দাবি করা হয়।

মামলার অভিযোগ অনুযায়ী, টাকা আদায়ের উদ্দেশ্যে ভুক্তভোগীর ওপর শারীরিক নির্যাতন চালানো হয়। সিআইডি জানায়, একপর্যায়ে কৌশলে ওই বাসা থেকে পালিয়ে মরুভূমি এলাকায় আশ্রয় নেন ভুক্তভোগী। পরে সৌদি পুলিশের হাতে আটক হওয়ার পর আইনি প্রক্রিয়া শেষে গত ২২ জুলাই তাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠানো হয়।

ভুক্তভোগীর স্ত্রী বাদী হয়ে সাভার থানায় মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমন আইন, ২০২৬-এর ৬(২), ৭ ও ৮ ধারায় মামলা দায়ের করেন। সিআইডির প্রাথমিক তদন্তে সালমান হোসেনের সরাসরি জড়িত থাকার প্রমাণ মিলেছে। এছাড়া সৌদি আরবে ভুক্তভোগীকে যে বাসায় আটকে রাখা হয়েছিল, সেটিও সালমানের বলে তথ্য পাওয়া গেছে।

বর্তমানে সিআইডির মানবপাচার শাখা মামলাটির তদন্ত করছে। চক্রের অন্য সদস্য, পলাতক আসামি এবং দেশি-বিদেশি সহযোগীদের শনাক্ত করতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।

বিদেশে কর্মসংস্থান বা অভিবাসনের ক্ষেত্রে দালাল কিংবা অবিশ্বস্ত প্রতিষ্ঠানের প্রলোভনে না পড়তে নাগরিকদের আহ্বান জানিয়েছে সিআইডি। সরকার অনুমোদিত বৈধ প্রতিষ্ঠানের মাধ্যমে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার এবং অর্থ লেনদেনের আগে যথাযথ যাচাই-বাছাই করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ভিসা জালিয়াতি বা মানবপাচারের সন্দেহ হলে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী বা সিআইডিকে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে।