দেশে হামের প্রকোপ বাড়ছে। সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গে আরও ৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে পাঁচজনই ঢাকার বাসিন্দা। আজ সোমবার স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত প্রতিবেদনে এই তথ্য জানানো হয়েছে।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, গতকাল রোববার সকাল আটটা থেকে আজ সকাল আটটা পর্যন্ত এই মৃত্যুর ঘটনাগুলো ঘটে। এর ফলে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত হামের উপসর্গে মোট ৮৭৪ জন এবং নিশ্চিত হামে ৯৯ জনসহ মোট ৯৭৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৪ ঘণ্টায় সারা দেশে আরও ১ হাজার ১৬২ জনের শরীরে হামের উপসর্গ দেখা দিয়েছে। ১৫ মার্চ থেকে এ পর্যন্ত মোট ১ লাখ ৫৭ হাজার ৯৯১ জন রোগীর শরীরে এই উপসর্গ দেখা গেছে। এছাড়া সর্বশেষ ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামের রোগীর সংখ্যা ৯৪ জন। ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত দেশে মোট ১৯ হাজার ৩১২ জনের শরীরে হাম শনাক্ত হয়েছে।

একই সময়ে হামের উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৪৪৫ জন। তাদের মধ্যে ১ লাখ ৩৩ হাজার ৪০৪ জন সুস্থ হয়ে হাসপাতাল ছেড়েছেন। অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় নিশ্চিত হামে কারও মৃত্যু হয়নি; তবে উপসর্গে মারা যাওয়া ছয়জনের মধ্যে পাঁচজন ঢাকা বিভাগের এবং একজন বরিশাল বিভাগের বাসিন্দা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের নিয়মিত পরিসংখ্যানে বয়সভিত্তিক তথ্য দেওয়া না হলেও রোগতত্ত্ববিদদের মতে, সব বয়সী মানুষই হামে আক্রান্ত হতে পারে, তবে শিশুরা বেশি ঝুঁকিতে থাকে। প্রাদুর্ভাবের সময়ে উপসর্গে হওয়া মৃত্যুগুলোকেও হামে মৃত্যু হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

হাম প্রতিরোধ ও প্রতিকার বিষয়ে ঢাকা মেডিকেল কলেজের মেডিসিন বিভাগের অধ্যাপক ডা. শাহনুর শারমিন মুক্তকণ্ঠতে স্বাস্থ্যবিষয়ক এক লেখায় বলেন, "হামের মতো অতি সংক্রামক ব্যাধির ক্ষেত্রে যা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ, তা হচ্ছে রোগীকে আলাদা রাখা বা আইসোলেশনে নেওয়া। চামড়ায় ফুসকুড়ি বা র‍্যাশ আসার আগেই রোগী থেকে অন্যরা সংক্রমিত হতে পারে। এ নাজুক সময়ে জ্বর, গায়ে ব্যথা, ঠান্ডা–কাশি হলে হামের কথা মাথায় রাখতে হবে। হাম প্রতিরোধে টিকার বিকল্প নেই। আগে টিকা দেওয়া না থাকলে টিকা দেওয়ার ব্যবস্থা করা দরকার। আক্রান্ত ব্যক্তির হাঁচি-কাশি বা শ্বাসপ্রশ্বাসের মাধ্যমে যেহেতু এটি ছড়ায়, তাই আক্রান্ত ব্যক্তির কাছ থেকে সাবধানে থাকতে হবে। মাস্ক পরা, সাবান দিয়ে হাত ধোয়া ইত্যাদি ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখা জরুরি।"