কর্মক্ষেত্রে সহকর্মীদের বেতন নিয়ে কথা বলা এখনও অনেকের কাছে নিষিদ্ধ বা ট্যাবু হিসেবে বিবেচিত হয়। যদিও বর্তমানে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানই স্বচ্ছতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে বেতন গোপনের নীতি পরিহার করছে, তবে কর্মীদের মধ্যে এই সংকোচ ও ভয়ের মনোভাব অপরিবর্তিত রয়েছে।
এক বহুজাতিক কোম্পানিতে বেশ কয়েক বছর ধরে চাকরি করছেন তানভীর। কাজের প্রতি তাঁর নিবেদিতভাব নিয়ে কারও প্রশ্ন নেই। কিন্তু সাম্প্রতিক সময়ে তিনি হতবাক হয়ে জানতে পারেন, অফিসে যোগ দেওয়া কিছুদিন আগের এক জুনিয়র কর্মীর বেতন তাঁর থেকেই বেশি। এত দিন নিজের পারিশ্রমিক নিয়ে মাথা ঘামাননি এমন তানভীর এই তথ্য পেয়ে মানসিকভাবে ভেঙে পড়েন। যে প্রতিষ্ঠানের জন্য তিনি নিরলস পরিশ্রম করছেন, সেখানেই পদমর্যাদায় নিচে থাকা একজন তার চেয়ে বেশি পারিশ্রমিক পাচ্ছেন—এটা মেনে নেওয়া তাঁর পক্ষে কঠিন ছিল। বিষয়টি নিয়ে তিনি কিছু সহকর্মীর কাছ থেকে জানতে চাইলে কেউ হাসিমুখে তথ্য দিয়েছেন, আবার অনেকেই তাঁর এই প্রশ্নে বিরক্ত বা অস্বস্তিবোধ করেছেন।
বাংলাদেশসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশেই ব্যক্তিগত আয় বা বেতন নিয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করা সামাজিকভাবে গ্রহণযোগ্য নয়। মেয়েদের বয়স বা ছেলেদের আয় জিজ্ঞাসা না করার মতোই বেতন নিয়ে আলোচনাও অনেকের কাছে অস্বস্তিকর। অনেকেই ধারণা করেন, বেতনের তুলনা বা আলোচনায় নতুন করে ঝামেলা বা সম্পর্কের অবনতি ঘটতে পারে। ফলে কোম্পানির নীতি পরিবর্তন হলেও কর্মীদের মধ্যে সেই পুরনো চিন্তাধারা এখনও টিকে আছে।
তবে হঠাৎ বা গণমাধ্যমে কারও বেতন জিজ্ঞাসা করা উচিত নয়। সম্পর্ক সুগভীর না হলে বা পরিবেশ অনুপযুক্ত হলে এটি ভদ্রতার পরিপন্থী। যদি কেউ আপনার বেতন জানতে আগ্রহী হন, তবে আগে নিজের পারিশ্রমিকের কথা জানান। এতে আলোচনা সহজ হবে এবং উভয় পক্ষই স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করবেন। নতুন যোগদানকারী কর্মীর সাথে সম্পর্ক স্থাপনের আগেই বেতন নিয়ে প্রশ্ন না করে প্রথমে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক গড়ে তোলা উচিত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, কেউ যদি নিজের বেতন বলতে অস্বীকৃতি জানান, তবে তাতে জোর করা বা পরবর্তীতে একই প্রশ্ন করা ভদ্রতার পরিপন্থী। যেহেতু বেতন জানানো একটি ব্যক্তিগত বিশ্বাসের বিষয়, তাই তা গোপন রাখা এবং সম্পর্ককে সুস্থ রাখা জরুরি।
সহকর্মীর বেতন নিয়ে আলোচনা করা দোষের কিছু নয়; বরং অনেক সময় নিজের ন্যায্য পাওনা বুঝতে অন্যের পারিশ্রমিক সম্পর্কে ধারণা থাকা প্রয়োজন। তবে এ ক্ষেত্রে সম্পর্ক, পরিবেশ ও পরিস্থিতি বিবেচনা করে সতর্কতা অবলম্বন করাই শ্রেয়।
সূত্র: রিডার্স ডাইজেস্ট