স্থানীয় সরকার প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলমের ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী মাসের শেষের দিকে বাংলাদেশ থেকে মালয়েশিয়ায় দুই লাখ শ্রমিক পাঠানোর কাজ শুরু হবে। তালিকাভুক্ত কোম্পানির মাধ্যমে এই শ্রমিকরা যাবেন। এছাড়া আরও ১০ হাজার শ্রমিককে সম্পূর্ণ বিনা খরচে পাঠানোর পরিকল্পনা রয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে এই প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্য রাখা হয়েছে।
আজ রোববার সচিবালয়ে স্থানীয় সরকারমন্ত্রী আবদুল মঈন খানের সাথে সৌজন্য সাক্ষাতে বাংলাদেশে নিযুক্ত মালয়েশিয়ার হাইকমিশনার মোহাম্মদ সুহাদা বিন ওসমান বিষয়গুলো অবহিত করেন। প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এই প্রক্রিয়াটি তদারকি করবে।
সড়ক নির্মাণে কারিগরি সহযোগিতার বিষয়ে হাইকমিশনার আশ্বস্ত করেছেন যে, মালয়েশিয়া পলিমার মডিফাইড বিটুমিন বা রাবারাইজড বিটুমিন প্রযুক্তিতে সহায়তা দেবে। প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০০৫ সালে বগুড়া সদরে পাইলট প্রজেক্ট হিসেবে ২ কিলোমিটার রাস্তায় এই প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়েছিল, যা এখনো অপরিহার্য অবস্থায় রয়েছে। বর্ষাকালে রাস্তা ক্ষতিগ্রস্ত হওয়া রোধে সরকার কমপক্ষে ২০ শতাংশ রাস্তা রাবারাইজড বিটুমিন দিয়ে নির্মাণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ভবিষ্যতে গ্রামীণ রাস্তা মেরামত ও নতুন নির্মাণেও মালয়েশিয়ার কারিগরি সহযোগিতায় এই প্রযুক্তি প্রয়োগ করা হবে।
মালয়েশিয়া বাংলাদেশে ইলেকট্রিক ভেহিকেল, সৌর প্যানেল, নবায়নযোগ্য বিদ্যুৎ ও হালাল ফুডসহ বিভিন্ন খাতে প্রায় ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগের প্রস্তুতি নিচ্ছে। খুব দ্রুতই এই বিনিয়োগ প্রক্রিয়া শুরু হবে বলে হাইকমিশনার জানান।
ই-রিকশা পরিচালনা ও উৎপাদন নিয়ন্ত্রণে নতুন নীতিমালা প্রণয়ন করা হচ্ছে। বুয়েট ও জেলা পর্যায়ের সরকারি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটের অটোমোবাইল শাখার প্রত্যয়ন ছাড়া এবং ট্রাফিক বিভাগের ফিটনেস ছাড়া ই-রিকশার নিবন্ধন দেওয়া হবে না। নীতিমালাটি আইন মন্ত্রণালয়ে ভেটিংয়ের পর এক বা দুই সপ্তাহের মধ্যে প্রকাশিত হবে। মূল সড়কে ই-রিকশা চলাচল নিষিদ্ধ থাকবে।
ই-রিকশা রিচার্জ পয়েন্ট বা গ্যারেজে পর্যায়ক্রমে সৌরবিদ্যুত ব্যবহার বাধ্যতামূলক করা হবে। চার্জিং পয়েন্টের জন্য সংশ্লিষ্ট সিটি করপোরেশন বা পৌরসভা থেকে লাইসেন্স নেওয়া বাধ্যতামূলক হবে। উৎপাদনকারী কারখানাগুলোও বুয়েটের নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট স্থানীয় সরকার থেকে লাইসেন্স ও নিবন্ধন নিতে হবে।
ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণে মোট আটটি জোন নির্ধারণ করা হবে। প্রতিটি জোনের জন্য আলাদা রঙের ই-রিকশা নির্ধারণ করা হবে যাতে একটি জোনের যান অন্য জোনে প্রবেশ করতে না পারে। রুট নির্ধারণ করবেন সিটি করপোরেশন ও ট্রাফিক বিভাগ। গ্রামীণ এলাকা ও জেলা শহরের সড়কে চার ও ছয় যাত্রীর ই-রিকশা চলাচল করতে পারবে। ঢাকা শহরে শুধুমাত্র দুই ও চার যাত্রীর ই-রিকশা নিবন্ধন পাবে, যা অবশ্যই বুয়েট ও প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রত্যয়িত নকশা অনুযায়ী তৈরি হতে হবে।