আন্তর্জাতিক মানবাধিকার বিশেষজ্ঞ আইরিন জুবাইদা খান জাতিসংঘে বাংলাদেশের নতুন স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেছেন। গতকাল শুক্রবার নিউইয়র্কের জাতিসংঘ সদর দপ্তরে মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের কাছে তাঁর পরিচয়পত্র পেশ করার মাধ্যমে তিনি এই পদে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগদান করেন। আজ শনিবার ঢাকায় সরকারি সংবাদ বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

মানবাধিকার, আন্তর্জাতিক আইন, শরণার্থী সুরক্ষা, আইনের শাসন ও টেকসই উন্নয়নের মতো ক্ষেত্রে তার কয়েক দশকের অভিজ্ঞতা রয়েছে। দীর্ঘ কর্মজীবনে তিনি জাতিসংঘ ও বিভিন্ন আন্তর্জাতিক সংস্থায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। ২০২০ সাল থেকে মতামত ও মতপ্রকাশের স্বাধীনতার অধিকার সুরক্ষা ও প্রসারবিষয়ক জাতিসংঘের স্পেশাল র‍্যাপোর্টিয়ার হিসেবে কার্যভার পালন করছেন তিনি। এর আগে ২০০১ থেকে ২০০৯ সাল পর্যন্ত আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনালের মহাসচিব ছিলেন আইরিন খান। সংস্থাটির ইতিহাসে তিনিই প্রথম নারী মহাসচিব।

২০১২ থেকে ২০১৯ সাল পর্যন্ত তিনি ইন্টারন্যাশনাল ডেভেলপমেন্ট ল’অর্গানাইজেশনের (আইডিএলও) মহাপরিচালক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। জাতিসংঘের শরণার্থীবিষয়ক হাইকমিশনারের কার্যালয়ে (ইউএনএইচসিআর) ২১ বছরের দীর্ঘ সময় কাজ করেছেন তিনি। ভারতে চিফ অব মিশন এবং ডিভিশন অব ইন্টারন্যাশনাল প্রটেকশনের উপপরিচালকসহ বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে তিনি দায়িত্ব পালন করেছেন।

মানবাধিকার ও শান্তি প্রতিষ্ঠায় অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ ২০০৬ সালে আইরিন খান মর্যাদাপূর্ণ সিডনি ‘পিস প্রাইজে’ ভূষিত হন। তিনি ‘দ্য আনহার্ড ট্রুথ: পভার্টি অ্যান্ড হিউম্যান রাইটস’ গ্রন্থের লেখক। ইউনিভার্সিটি অব ম্যানচেস্টার ও হার্ভার্ড ল’স্কুলে আইন বিষয়ে উচ্চশিক্ষা গ্রহণ করেছেন তিনি.