সুইজারল্যান্ডের এক শখের বাগানি জুর্গ ভিসলি বিশ্বের লম্বা মরিচের রেকর্ড নতুন করে উন্নীত করেছেন। গত ১১ আগস্ট থুরগাউয়ের ডোজভিলে আনুষ্ঠানিকভাবে মাপা এই মরিচটির দৈর্ঘ্য পাওয়া গেছে ৫২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটার (১ ফুট ৮ দশমিক ৬ ইঞ্চি)।

গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডসের (জিডব্লিউআর) তথ্য অনুযায়ী, প্রায় এক দশকে সবচেয়ে লম্বা মরিচের বিশ্ব রেকর্ড ভেঙেছে মাত্র তিনবার। সেই তিনবারই রেকর্ডটি করেছেন জুর্গ। ২০১৭ সালের অক্টোবরে তিনি প্রথমবার রেকর্ড গড়েছিলেন ৪৫ সেন্টিমিটার দৈর্ঘ্যের মরিচ দিয়ে। পরের বছর ২০১৮ সালে তিনি ৫০ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের রেকর্ড করেন, যা আট বছর ধরে অক্ষুণ্ন ছিল। এবার ৫২ দশমিক ৫ সেন্টিমিটারের মরিচ সেটি ছাড়িয়ে গেছে।

জুর্গ জানিয়েছেন, গত মার্চে ঘরের ভেতর ২৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় বিশেষ ধরনের কৃত্রিম আলোর (গ্রো লাইট) নিচে তিনি মরিচের বীজ বপন করেন। এপ্রিলের শেষে তুষারপাতের আশঙ্কা কেটে গেলে বাগানে চারা লাগান। মাটিতে প্রচুর পরিমাণে ভালোভাবে পচানো জৈব সার মেশান। এরপর নিয়মিত পানি ও পরিমিত সার দেন। বেশি সার দিলে গাছ বেশি পাতা তৈরি করে, মরিচ নয়।

জুর্গের সব রেকর্ড করা মরিচ এসেছে ‘জো’স লং’ নামের একধরনের ক্যায়েন মরিচ থেকে। গত এক দশকে আগের মৌসুমের সবচেয়ে ভালো মরিচের বীজ থেকে বীজ রেখে নিজস্ব একটি জাত তৈরি করেছেন তিনি। নাম দিয়েছেন ‘ভিসলি বিগ লং’। তবে জুর্গের মতে, আরও লম্বা মরিচ ফলানো সম্ভব। এ ক্ষেত্রে মরিচকে সোজা রাখাই বড় চ্যালেঞ্জ। কারণ, লম্বা মরিচ সহজেই বাঁকা হয়ে যেতে থাকে। সোজা করতে গেলে অনেক সময় সেটি ভেঙে যায়।

রেকর্ডের মরিচ শুধু দেখার জন্য নয়, খাওয়ারও কাজে লাগে। জুর্গ মরিচ কাঠের চুলায় শুকিয়ে গুঁড়া করেন। তাঁর প্রিয় পদ হলো র‍্যাটাটুই, যার ওপর ভাজা কিমা ও সামান্য গলানো কুচি করা পনির দেন। মরিচ ছাড়াও বিভিন্ন সবজি ফলিয়ে জুর্গ নিজ দেশে সাফল্য পেয়েছেন। একসময় শসা, গাজর, বিট, লাল বাঁধাকপি, ট্রম্বোলিনো স্কোয়াশ, লম্বা লাউ, বিশাল কুমড়াসহ বিভিন্ন সবজিতে তাঁর ২০টির বেশি সুইস রেকর্ড ছিল।