বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক বলেছেন, "সরকার গঠনের ৬ মাস পর এখন জনজীবনের জরুরি সংকট সমাধানে দৃশ্যমান ও কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে হবে। নির্বাচিত জনপ্রিয় সরকারের কাছ থেকে মানুষ এখন আর কোনো অজুহাত শুনতে চাইবে না।"
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাজধানীর ফার্মগেটের ফ্লেমিংকো কনভেনশন সেন্টার মিলনায়তনে বাংলাদেশ বিপ্লবী যুব সংহতি ঢাকা মহানগর উত্তরের আয়োজিত প্রতিনিধি সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ঢাকা মহানগর উত্তরের বিভিন্ন থানা থেকে প্রায় তিন শতাধিক যুব প্রতিনিধি এতে অংশ নেন।
সাইফুল হক "জনপ্রত্যাশা পূরণে সরকারকে মানুষের জানমাল ও জীবন-জীবিকার নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে।" উল্লেখ করে দ্রুত অসহনীয় বেকারত্বের অবসান না হলে সামাজিক অস্থিরতা, নৈরাজ্য ও অপরাধপ্রবণতা আরও বৃদ্ধি পাবে। তিনি "এখন আর কোনোভাবেই বিশাল যুবশক্তির অমিত সম্ভাবনা নষ্ট হতে দেওয়া যাবে না।" বলে যুবশক্তিকে কাজে লাগানোর তাগিদ দেন।
পররাষ্ট্রনীতি ও জ্বালানি নিরাপত্তা নিয়ে তিনি বলেন, "কেবল ভারতের ক্ষেত্রে নয়, সব পরাশক্তির সঙ্গেই জাতীয় মর্যাদা ও জাতীয় স্বার্থের এই নীতি অনুসরণ করতে হবে।" "ভারত বাংলাদেশের সঙ্গে সত্যিকারের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক চাইলে বাংলাদেশবিরোধী সব অপপ্রচার ও অপতৎপরতা অবশ্যই বন্ধ করতে হবে।" তেল, গ্যাস ও জ্বালানির মতো অতি সংবেদনশীল খাতকে কোনোভাবেই বিদেশ-নির্ভর করে রাখা যাবে না। "জাতীয় স্বাবলম্বিতার নীতির ভিত্তিতে জাতীয় সক্ষমতা বাড়িয়ে পেট্রোবাংলাসহ রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে এবং সমুদ্র ও ভূখণ্ডে নিজেদের জ্বালানি সম্পদ অনুসন্ধান ও উত্তোলন নিশ্চিত করতে হবে।"
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ে তিনি বলেন, "দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে এখনও মানুষ খুন, নির্যাতন-নিপীড়নের শিকার হচ্ছে।" দুর্বৃত্ত অপরাধীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণের আহ্বান জানিয়ে তিনি নির্বাচিত সরকারকে জনগণের কাঙ্ক্ষিত পরিবর্তন ও বাস্তব কাজের মাধ্যমে দায়িত্বের প্রমাণ দিতে বলেন। আওয়ামী লীগের মতো আর কেউ যেন জনগণের ধৈর্যের পরীক্ষা না নেয়, সে ব্যাপারে ও সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
যুবসমাজের উদ্দেশে তিনি বলেন, "দেশের যেকোনো অন্যায়, দুর্নীতি ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে বিপ্লবী যুবসমাজকে বুক চিতিয়ে প্রতিবাদ গড়ে তুলতে হবে।" "গণ-অভ্যুত্থানের চেতনা ধারণ করে যুবসংগঠনগুলোকে আরও শক্তিশালী, সক্রিয় ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।"
বিশেষ অতিথির বক্তব্যে শ্রমজীবী নারী মৈত্রীর সভাপতি ও বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির রাজনৈতিক পরিষদের সদস্য বহ্নিশিখা জামালী বলেন, "ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন থেকে শুরু করে ভাষা আন্দোলন, ’৬৯ ও ’৭০-এর গণ-অভ্যুত্থান, ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ এবং ’২৪-এর গণ-অভ্যুত্থান— দেশের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ গণআন্দোলন ও সংগ্রামে যুবসমাজ জীবন দিয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছে।" "অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে মব জাস্টিসসহ নানা ধরনের প্রতারণা ও অনিশ্চয়তার কারণে বহু যুবক বিপদে পড়েছেন, বেকারত্বের শিকার হয়েছেন এবং জীবিকার সন্ধানে বিদেশে গিয়ে প্রাণ হারিয়েছেন।" "যুবসমাজের এই হতাশা ও অনিশ্চয়তা দূর করতে কার্যকর উদ্যোগ প্রয়োজন।"