চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলার দেবীনগর ইউনিয়নের চরচাকলা গ্রামে পদ্মা নদীর শাখা মরা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই পরিবারের চার বোনসহ পাঁচ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। ঘটনাটি ঘটেছে শুক্রবার (২৮ আগস্ট)। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন চাঁপাইনবাবগঞ্জের জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম।
স্থানীয় সূত্র জানায়, জুমার নামাজের সময় গ্রামের বেশিরভাগ মানুষ মসজিদে থাকায় শিশুরা বড়দের অগোচরে নদীতে নামে। নদীর গভীরতা অনুমান করতে না পেরে এক শিশু পানিতে তলিয়ে যায়। তাকে উদ্ধারে এগিয়ে আসা সাঁতার না জানা আরও চার শিশুও একই ভাগ্যে পতিত হয়। নামাজ শেষে পাড়ে পড়ে থাকা জুতা ও কাপড় দেখে স্থানীয়রা বিষয়টি টের পান। পরে নদীতে অভিযান চালিয়ে পাঁচ শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
নিহত চারজন চরচাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী। তারা হলো প্রথম শ্রেণির মোসা. আরিবা খাতুন (রোল-২), চতুর্থ শ্রেণির মোসা. সুমাইয়া খাতুন (রোল-৪), একই শ্রেণির মোসা. সুরাইয়া খাতুন (রোল-৩) এবং পঞ্চম শ্রেণির মোসা. সুমাইয়া খাতুন (রোল-৭)। অন্য নিহত মোসা. শরিফা খাতুন পার্শ্ববর্তী চর দেবীনগর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ছাত্রী। সকলেই পরস্পরের মামাতো, ফুপাতো ও চাচাতো বোন।
জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, একই গ্রামের ও বিদ্যালয়ের কোমলমতি শিশুদের এমন অকালমৃত্যু অত্যন্ত বেদনাদায়ক ও হৃদয়বিদারক। শোকসন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা জানাই। এই অপূরণীয় ক্ষতি কোনোভাবেই পূরণ হওয়ার নয়।
চার শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোকস্তব্ধ চরচাকলা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। প্রধান শিক্ষক আব্দুর রাজ্জাক জানান, খবরটি শুনে তিনি খুবই মর্মাহত। নিহত শিক্ষার্থীরা মেধাবী ও শান্ত স্বভাবের ছিল। তাদের সবার রোল নম্বর নিজ নিজ শ্রেণিতে প্রথম ১০-এর মধ্যে ছিল। পড়াশোনার পাশাপাশি নিজেদের মধ্যেও তাদের ভালো সম্পর্ক ছিল। একই বিদ্যালয়ের চার শিক্ষার্থীকে একসঙ্গে হারিয়ে পুরো বিদ্যালয় পরিবার বাকরুদ্ধ হয়ে পড়েছে।
এদিকে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে নিহত শিশুদের পরিবারের সদস্যদের দাফন-কাফনের জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়েছে। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের পক্ষ থেকেও শোক প্রকাশ করা হয়েছে.