কক্সবাজারের ওশান প্যারাডাইস হোটেলের পার্কিং এলাকা থেকে বৈধ কাগজপত্র ছাড়া তিনটি বিলাসবহুল গাড়ি উদ্ধার করেছে কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর। গাড়িগুলোর ক্রয় ও আমদানির কোনো বৈধ দলিল না থাকায় সেগুলো জব্দ করা হয়। সংস্থার তদন্তে জানা যায়, সম্ভাব্য শুল্ক ফাঁকি, চোরাচালান বা দলিল জালিয়াতির মাধ্যমে এই গাড়িগুলো দেশে নিয়ে আসা হয়েছে।
গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত তিনটার দিকে কক্সবাজার শহরের পাঁচ তারকা হোটেল ওশান প্যারাডাইসের পার্কিংয়ে অভিযান চালিয়ে গাড়ি তিনটি জব্দ করা হয়। আজ শুক্রবার কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয় থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালকের নেতৃত্বে একটি দল অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় ঢাকা মেট্রোর নম্বরের লাল রঙের টয়োটা, লাল রঙের হোন্ডা এবং টুইন গ্রে রঙের মাজদা গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।
গাড়িগুলোর মালিকানা ও আমদানি প্রক্রিয়া যাচাই করতে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। টয়োটা গাড়িটির বহনকারী মো. হাসিবুর রহমান সিনহা, হোন্ডা গাড়িটির বহনকারী মো. সাফিয়াত মাহমুদ এবং মাজদা গাড়িটির বহনকারী মো. সারাফাত রহমানকে প্রশ্ন করা হলেও তাঁরা ক্রয় বা আমদানির কোনো বৈধ তথ্য বা দলিল উপস্থাপন করতে পারেননি। বৈধতা নিয়ে সন্দেহ দেখা দেওয়ায় পার্কিংয়ে থাকা অবস্থায় গাড়িগুলো জব্দ করা হয়।
কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের চট্টগ্রাম আঞ্চলিক কার্যালয়ের অতিরিক্ত মহাপরিচালক রেজভী আহম্মেদ বলেন, প্রাথমিক অনুসন্ধানে গাড়িগুলো শুল্ক ফাঁকি, মিথ্যা ঘোষণা, ভিন্নতর উপায়ে বা চোরাচালানের মাধ্যমে দেশে আনা হয়েছে বলে তথ্য পাওয়া গেছে। এ ক্ষেত্রে দলিল জালিয়াতির বিষয়টিও সামনে এসেছে। জব্দ করা গাড়িগুলোর বিষয়ে বিস্তারিত অনুসন্ধান চলছে। এ ঘটনায় আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।