পঞ্চগড় সদর উপজেলার জগদল বাজারে পদার্থবিজ্ঞান বিভাগের শিক্ষার্থী রোকসানা আক্তারের বিরুদ্ধে চিকিৎসক না হয়েও রোগীদের ওষুধ সেবনের পরামর্শ দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। পরিবারের দাবি, তার দেওয়া ওষুধ সেবনের পর সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা শারমিন আক্তারের গর্ভের সন্তান নষ্ট হয়েছে।
গত ১৪ আগস্ট জগদল বাজারের মাতৃসেবা ফার্মেসীতে অসুস্থ হয়ে পড়লে রোকসানা আক্তার শারমিন আক্তারকে একটি প্রেসক্রিপশন লিখে দেন। স্বামী মিজানুর রহমানের অভিযোগ, সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসক না হয়ে ঝুঁকিপূর্ণ অন্তঃসত্ত্বা নারীকে অ্যান্টিবায়োটিকসহ বিভিন্ন ওষুধ দিয়ে অপচিকিৎসা করা হয়, যার কারণেই তাদের সন্তান নষ্ট হয়েছে। বৃহস্পতিবার (২৭ আগস্ট) সরেজমিনে ওই ফার্মেসিতে গেলে রোগীদের প্রেসক্রিপশন দেওয়ার বিষয়টি স্বীকার করেন রোকসানা আক্তার।
স্থানীয়রা জানান, চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়াই ফার্মেসিতে ওষুধ বিক্রি এবং অপচিকিৎসা দেওয়ার ঘটনা নিত্যঘটনা। বিশেষ করে গর্ভবতী নারীদের ক্ষেত্রে এটি চরম ঝুঁকিপূর্ণ। একরামুল হক নামে স্থানীয় এক বাসিন্দা বলেন, "রোগীটি সাত মাসের অন্তঃসত্ত্বা ও ঝুঁকিপূর্ণ অবস্থায় ছিলেন। চিকিৎসক না হয়ে এভাবে প্রেসক্রিপশন করা মোটেও ঠিক হয়নি। প্রশাসনের উচিত এ ধরনের ওষুধের দোকানগুলোতে কঠোর নজরদারি রাখা।"
বিষয়টি নিয়ে পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. মিজানুর রহমান জানান, "বিএমডিসি সনদপ্রাপ্ত চিকিৎসক না হলে কোনো ধরনের ওষুধ বা প্রেসক্রিপশন লেখার সুযোগ নেই। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে দ্রুত আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।"