লর্ডস টেস্টের প্রথম দিনে পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ড (পিসিবি) ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম স্কাই স্পোর্টসের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দায়ের করেছে। ইমরান খানের দুই ছেলে সুলেইমান ও কাসিম খানের সাক্ষাৎকার প্রচারের তীব্র প্রতিবাদে মাঠে না নেওয়ার বিষয়টিও বিবেচনা করেছিল পিসিবি।

ইএসপিএনক্রিকইনফোর প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, লাঞ্চ বিরতির সময় স্কাই স্পোর্টসে সাক্ষাৎকারটি সম্প্রচারিত হয়। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক ও বর্তমান সম্প্রচারক মাইকেল আথারটন এই সাক্ষাৎকারটি গ্রহণ করেন। তাতে ’৯২ বিশ্বকাপ জয়ী কিংবদন্তি ইমরান খানের শারীরিক অবস্থা ও কারাগারে তার জীবন নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেন তাঁর ছেলেরা। প্রায় তিন বছর ধরে কারাবন্দী ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে চিন্তা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন তারা।

পিসিবি লাঞ্চ বিরতির আগেই স্কাই স্পোর্টসের সাথে যোগাযোগ করে সাক্ষাৎকার নিয়ে আপত্তি জানায়। এরপর সম্প্রচারক কর্তৃপক্ষ কিছুটা সময় রেখে ১৮ মিনিটের সাক্ষাৎকারটি শেষ পর্যন্ত সম্প্রচার করে। সাক্ষাৎকার শেষ হওয়ার পর পাকিস্তান দ্বিতীয় সেশনের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছিল। স্থানীয় সময় বেলা ২টা ৪০ মিনিটে মাঠে ফেরার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত নির্ধারিত সময়েই খেলোয়াড়রা মাঠে নামেন।

গত বুধবার সকালে লর্ডসের রাইটার্স রুমে আথারটন সাক্ষাৎকারটি নেন। টেস্ট শুরু হওয়ার আগে স্কাই স্পোর্টস একটি টিজার দেখালেও পাকিস্তানে সিরিজ সম্প্রচারকারী পিটিভি এটি প্রচার করেনি। ইমরানের স্বাস্থ্য নিয়ে কয়েক সপ্তাহ ধরে ব্যাপক আলোচনা চলছে। বাবার জন্য যথাযথ চিকিৎসা নিশ্চিত করতে ছেলেরা বিভিন্নভাবে দাবি জানিয়ে আসছেন। গত সপ্তাহে পাকিস্তানের সুপ্রিম কোর্ট ইমরানকে ইসলামাবাদের শিফা হাসপাতালে ভর্তির নির্দেশ দিলেও তাকে রাষ্ট্রীয় পিআইএমএস হাসপাতালে নেওয়া হয়। স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে অল্প সময়ের মধ্যেই তাকে আবার কারাগারে ফেরত পাঠানো হয়।

ইমরানের বোন ও ছেলেরা অভিযোগ করেন, আদালতের নির্দেশ লঙ্ঘন করা হয়েছে এবং তাঁকে ব্যক্তিগত চিকিৎসকের সঙ্গে দেখা করার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে না। এই বিষয়ে ইতিমধ্যে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফের কাছে ২১ জন সাবেক আন্তর্জাতিক অধিনায়ক চিঠি দিয়ে যথাযথ চিকিৎসার আহ্বান জানান। চিঠিতে স্বাক্ষর করেন আথারটনসহ ভারত, অস্ট্রেলিয়া, ইংল্যান্ড, ওয়েস্ট ইন্ডিজ ও নিউজিল্যান্ডের সাবেক অধিনায়করা। এটি দ্বিতীয় চিঠি; গত ফেব্রুয়ারিতে ১৪ জন সাবেক অধিনায়ক একই বিষয়ে সরকারকে চিঠি দিলেও কোনো জবাব পাননি।

অন্যদিকে, পাকিস্তান সরকার ইমরান খানকে কারাগারে নির্যাতন বা পরিবার ও আইনজীবীদের সাথে যোগাযোগে বাধা দেওয়ার অভিযোগ অস্বীকার করেছে। গত সপ্তাহে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে দেওয়া বিবৃতিতে সরকার দাবি করে, ২০২৩ সালের আগস্টে কারাবন্দী হওয়ার পর থেকে তাঁর পরিবার, আইনজীবী ও চিকিৎসকরা ৯০০ বারের বেশি তাঁকে দেখেছেন। ২০১৮ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী ছিলেন ইমরান খান। ক্ষমতাচ্যুতির পর একাধিক মামলায় দুর্নীতির অভিযোগে ১০, ১৪ ও ১৭ বছরের সাজা পেয়েছেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের আগে আরেক মামলায় সাত বছরের কারাদণ্ড দেওয়া হয় তাঁকে।

“পাকিস্তান যেন ইমরানকে মুছে ফেলতে না পারে, সে জন্যই ওই চিঠি—মাইকেল আথারটন”