এশিয়ান গেমসে খেলতে জাপানে যাবে বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। কিন্তু সেখানে ক্রিকেটাররা থাকবেন কোথায়? শহরের হোটেলে থেকে বুলেট ট্রেনে মাঠে যাতায়াত, বন্দরে নোঙর করা জাহাজে অবস্থান কিংবা অস্থায়ী তাঁবুতে রাত কাটানো। দলগুলোর সামনে রাখা সম্ভাব্য এই তিন বিকল্পের কোনোটিই স্বস্তি দিতে পারছে না এশিয়ার বড় ক্রিকেট দলগুলোকে।

জাপানের আইচি ও নাগোয়ায় আগামী মাসে শুরু হতে যাওয়া এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট আয়োজন নিয়ে তৈরি হয়েছে এমন অনিশ্চয়তা। আবাসনের পাশাপাশি খেলার মাঠ ও ক্রিকেটারদের সুযোগ-সুবিধার মান নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

ব্যাংককে অনুষ্ঠিত এশিয়ান ক্রিকেট কাউন্সিলের সাম্প্রতিক সভায় বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, পাকিস্তান, শ্রীলঙ্কা ও আফগানিস্তানের মতো টেস্ট খেলুড়ে দেশগুলো আবাসন ও মাঠের প্রস্তুতি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে বলে ক্রিকবাজের প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।

দলগুলোর একটি বিকল্প হলো শহরের কোনো হোটেলে অবস্থান করে বুলেট ট্রেনে ক্রিকেট মাঠে যাতায়াত করা। আরেকটি বিকল্প হিসেবে কাছাকাছি নোঙর করা জাহাজে থাকার কথা বলা হয়েছে। তৃতীয় ব্যবস্থাটি অস্থায়ী তাঁবু। বড় তারকাদের নিয়ে খেলতে যাওয়া দলগুলোর কাছে কোনো ব্যবস্থাকেই আদর্শ মনে হচ্ছে না।

প্রচলিত ক্রীড়াবিদদের ভিলেজ না থাকায় এবার হোটেল, অস্থায়ী আবাসন ও প্রমোদতরিতে ক্রীড়াবিদদের রাখার পরিকল্পনা করেছে আয়োজকেরা। প্রায় চার থেকে পাঁচ হাজার ক্রীড়াবিদের থাকার ব্যবস্থা করা হচ্ছে কোস্টা সেরেনা নামের একটি প্রমোদতরিতে। আরও প্রায় দুই হাজার ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তা থাকবেন অস্থায়ী কাঠের আবাসনে।

অবশ্য আইচি-নাগোয়া আয়োজক কমিটি ও অলিম্পিক কাউন্সিল অব এশিয়া জানিয়েছে, নিবন্ধিত ১৭ হাজারের বেশি ক্রীড়াবিদ ও কর্মকর্তার জন্য আবাসনের ব্যবস্থা করা হয়েছে। তবে ক্রিকেট দলগুলোর জন্য শেষ পর্যন্ত কোন ব্যবস্থা নির্ধারিত হবে, সেটি এখনো পরিষ্কার নয়।

মাঠের অবস্থাও স্বস্তিদায়ক নয়। নিশিন শহরের কোরোগি স্পোর্টস পার্কে এশিয়ান গেমসের ক্রিকেট ম্যাচগুলো হওয়ার কথা। নতুন করে তৈরি করা এই মাঠে এখনো পূর্ণাঙ্গ ড্রেসিংরুমসহ প্রয়োজনীয় সব সুযোগ-সুবিধা প্রস্তুত হয়নি বলে প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।

মাঠটির একটি ভিডিও প্রকাশ করে আইসিসির প্রধান নির্বাহী সঞ্জোগ গুপ্তা লিখেছেন, “মাঠ প্রায় প্রস্তুত। তবে ১০টি পুরুষ ও ৮টি নারী দলকে স্বাগত জানানোর আগে কিছু কাজ এখনো বাকি।”

এশিয়ান গেমসের ওয়েবসাইটের দাবি, প্রাকৃতিক ঘাসের পিচসহ আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতা আয়োজনের প্রয়োজনীয় মান পূরণ করা জাপানের দ্বিতীয় ক্রিকেট স্থাপনা এটি। গত মে মাসে এখানে আইসিসির একটি বাছাইপর্বও আয়োজন করা হয়েছিল। তারপরও ড্রেসিংরুম ও অন্যান্য অবকাঠামো প্রস্তুত না হওয়ায় বড় দলগুলোর উদ্বেগ কাটছে না।

এসিসির একজন সদস্য জানিয়েছেন, মাঠ ও আবাসন ব্যবস্থা পরিদর্শনে একটি প্রতিনিধিদল জাপানে পাঠানো হবে। তবে প্রতিযোগিতা শুরুর সময় খুব কাছে চলে আসায় এই উদ্যোগ দেরিতে নেওয়া হচ্ছে কি না, সেই প্রশ্নও উঠেছে। অন্য খেলার এশীয় সংস্থাগুলো অনেক আগে আবাসন নিশ্চিত করলেও এসিসি সময়মতো ব্যবস্থা নেয়নি বলে সদস্যদের একটি অংশ মনে করছে।

ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডও নিজেদের একজন পরিচালন কর্মকর্তা পাঠিয়ে আয়োজন পর্যালোচনার পরিকল্পনা করেছে। তবে সপ্তাহের শুরু পর্যন্ত ওই কর্মকর্তা জাপানে যাননি। এ বিষয়ে ক্রিকবাজের পক্ষ থেকে জাপান ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনের প্রধান নির্বাহী অ্যালেক্স মিয়াজির সঙ্গে যোগাযোগ করা হলেও তাৎক্ষণিক কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।

আগামী ১৯ সেপ্টেম্বর আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু হবে আইচি-নাগোয়া এশিয়ান গেমস। তবে টি-টোয়েন্টি সংস্করণের ক্রিকেট শুরু হবে দুই দিন আগে, ১৭ সেপ্টেম্বর। নারী ক্রিকেটের ফাইনাল ২২ সেপ্টেম্বর এবং পুরুষদের সোনার পদকের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে ৩ অক্টোবর।