নেপাল ও তিব্বতের সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহ ধসে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ৩৮৯ জন প্রাণ হারিয়েছেন। বুধবারের এই দুর্ঘটনায় এখনো প্রায় ৯০০ মানুষ নিখোঁজ রয়েছেন।

হিমবাহের ধসের পর চীন ও নেপাল হয়ে প্রবাহিত লেন্দে নদীতে কাদা ও ধ্বংসস্তূপ তীব্র গতিতে ছুটে যায়, যা বিপর্যয়ের সূচনা করে। বন্যার স্রোত ভোতেকোশি ও ত্রিশূলী নদীর আশপাশের শহর ও গ্রামগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত করে। ঘরবাড়ি, সড়ক, সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ ব্যাপক অবকাঠামো ভেসে গেছে। উদ্ধারকারী দলগুলোর কাজের সময় ওপর থেকে তোলা একটি ভিডিওতে বন্যার প্রকোপ স্পষ্টভাবে ফুটে উঠেছে। একসময়ের জীবন্ত গ্রামগুলো এখন কাদায় ঢাকা পড়েছে। বন্যার পানি বহুতল ভবনের নিচতলা পর্যন্ত ডুবিয়ে দিয়েছে। উদ্ধারকারীরা বুকসমান কাদা ভেঙে বেঁচে যাওয়া মানুষদের খুঁজছেন।

নেপাল সেনাবাহিনী উপদ্রুত এলাকা থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছে। কর্তৃপক্ষ ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে নির্দেশ দিয়েছে। রেডক্রসের (আইএফআরসি) নেপাল প্রধান ডেভিড ফিশার জানান, এই বন্যায় কিছু গ্রাম ও ব্যস্ততম বাজার এলাকা পুরোপুরি বিলীন হয়ে গেছে। বৃহস্পতিবার রাত পর্যন্ত নেপাল পুলিশ ৩৮৯ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করেছে। নিখোঁজদের মধ্যে ১৪২ জন ভারতীয় নাগরিক রয়েছে। নেপালের পর্যটন বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, নিখোঁজদের মধ্যে অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র ও দক্ষিণ কোরিয়াসহ বিভিন্ন দেশের পর্যটক আছেন।

অন্যদিকে, তিব্বত সীমান্তের জিরং শহরে তিনজন মারা গেছেন এবং পাঁচ শতাধিক মানুষ নিখোঁজ আছেন। চীনের সংবাদমাধ্যম এ তথ্য জানিয়েছে। তিব্বত অংশের একটি সিসিটিভি ফুটেজে কাদার বিশাল ঢেউ একটি বহুতল ভবনের ওপর আছড়ে পড়তে দেখা গেছে। কাদার তোড়ে গাড়ি ও বাসগুলো খেলনার মতো ভেসে যাচ্ছে।

নেপালের বিপর্যয় হিমবাহের সামনের অংশ ভেঙে পড়ার কারণে। প্রতিবেশী ভারতের সীমান্তবর্তী উত্তর প্রদেশ ও বিহারের জেলাগুলোতেও বন্যার প্রভাব পড়েছে। প্রশাসন সেখানে বন্যা–সতর্কতা জারি করেছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় জুন থেকে সেপ্টেম্বর মাস পর্যন্ত মৌসুমি বৃষ্টিতে নিয়মিত বন্যা ও ভূমিধস হয়। তবে বিজ্ঞানীরা সতর্ক করে বলেছেন, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে এই অঞ্চলে ঘন ঘন এবং তীব্র প্রাকৃতিক দুর্যোগ ঘটছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে উঁচু পর্বতের পাথর ও বরফের ভিত নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। কাঠমান্ডুভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টার ফর ইন্টিগ্রেটেড মাউন্টেইন ডেভেলপমেন্টের (ইসিমোড) জলবায়ুঝুঁকি বিশেষজ্ঞ চিয়াংগং ঝাং এ সতর্কতা দিয়েছেন। তিনি জানান, চীন-নেপাল সীমান্তবর্তী নদীর উজানে ধসে পড়া ধ্বংসস্তূপ আটকে আছে। এ কারণে সেখানে আরেকটি বন্যা দেখা দিতে পারে। আটকে থাকা পানি হঠাৎ ধেয়ে এলে ভাটি অঞ্চলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটবে। এ জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে অত্যন্ত সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ।