যুক্তরাষ্ট্রে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের সন্ত্রাসী হামলার মূল পরিকল্পনাকারী হিসেবে অভিযুক্ত খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার ২০২৮ সালের জুনে শুরু হবে। নাইন ইলেভেন নামে পরিচিত ওই হামলার প্রায় আড়াই দশক পর তাঁর বিচার শুরু হতে যাচ্ছে।

একজন সামরিক বিচারক রায় দিয়েছিলেন, ২০২৮ সালের ৫ জুন খালিদ শেখ মোহাম্মদ ও তাঁর সঙ্গে অভিযুক্ত আরও তিনজনের বিচার শুরু হবে। প্রসিকিউটররা ২০২৭ সালের জানুয়ারিতে বিচার শুরুর প্রস্তাব দিয়েছিলেন। তবে মামলার বিভিন্ন আইনি ও প্রমাণসংক্রান্ত বিষয় নিষ্পত্তির জন্য আরও সময় প্রয়োজন বলে বিচারক ওই প্রস্তাব নাকচ করেন।

খালিদ শেখ মোহাম্মদের সঙ্গে অভিযুক্ত অপর তিনজন হলেন ওয়ালিদ বিন আতাশ, আলী আবদুল আজিজ আলী ও মুস্তফা আল-হাওসাই।

.

বিচার শুরুর জন্য নির্ধারিত নতুন তারিখে আদালতের বিভিন্ন বিষয় নিষ্পত্তির জন্য অতিরিক্ত সময় পাওয়া যাবে বলে আদালতের নথিতে উল্লেখ করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনীর বিচারক লেফটেন্যান্ট কর্নেল মাইকেল এ শ্রামা। এ ছাড়া কোন কোন প্রমাণ আদালতে উপস্থাপন করা যাবে, তা নিয়েও সিদ্ধান্ত নিতে হবে।

আগামী মাসে ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৫ বছর পূর্ণ হবে। ওই দিন ছিনতাই করা উড়োজাহাজ দিয়ে নিউইয়র্কের ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার ও ভার্জিনিয়ার পেন্টাগনে হামলা চালানো হয়। আরেকটি ছিনতাই করা উড়োজাহাজ পেনসিলভানিয়ার একটি মাঠে বিধ্বস্ত হয়। এসব হামলায় প্রায় ৩ হাজার মানুষ নিহত হন।

তবে কারা এই সন্ত্রাসী হামলা চালিয়েছে, সেই বিষয়টি আজও অমিমাংসিত। এখনো অনেক প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায়নি।

.
২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার ২৭ বছর পর শুরু হতে যাচ্ছে খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিচার। এর আগে মৃত্যুদণ্ড এড়াতে তাঁর করা সমঝোতাও বাতিল হয়ে যায়।
.

খালিদ শেখ মোহাম্মদের বিরুদ্ধে অভিযোগ, বাণিজ্যিক উড়োজাহাজ চালানোর জন্য পাইলটদের প্রশিক্ষণ দিয়ে সেগুলো নিয়ে হামলার পরিকল্পনা তিনিই করেছিলেন। পরে তিনি সেই পরিকল্পনা আল-কায়েদা নেতা ওসামা বিন লাদেনের কাছে নিয়ে যান।

যুক্তরাষ্ট্রে পড়াশোনা করা প্রকৌশলী খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালের মার্চে পাকিস্তান থেকে গ্রেপ্তার করা হয়। তাঁর সঙ্গে মুস্তফা আল-হাওসাইকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।

খালিদ শেখ মোহাম্মদ এর আগে দাবি করেছিলেন, ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার পুরো পরিকল্পনা শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত তিনিই করেছিলেন।

মার্কিন সরকারের ভাষায়, ওই হামলা ছিল আধুনিক সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে সংঘটিত ‘সবচেয়ে গুরুতর অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড’।

খালিদ শেখ মোহাম্মদকে ২০০৩ সালে গ্রেপ্তারের পর বিভিন্ন গোপন আটককেন্দ্রে রাখা হয়। ২০০৬ সালের সেপ্টেম্বর থেকে তাঁকে কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারে বন্দী রাখা হয়েছে।

.

খালিদ শেখের বিরুদ্ধে করা মামলার বিচার এর আগে একাধিকবার পিছিয়েছে। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ডের বিচার এড়াতে তিনি একটি সমঝোতায়ও পৌঁছেছিলেন। ওই সমঝোতা অনুযায়ী, তিনি দোষ স্বীকার করলে তাঁকে আমৃত্যু কারাদণ্ড দেওয়া হতো এবং মৃত্যুদণ্ডের মুখোমুখি হতে হবে না।

দুই বছর ধরে আলোচনার পর ওই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়েছিল। তৎকালীন মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী লয়েড অস্টিনের নিয়োগ দেওয়া একজন কর্মকর্তা এতে স্বাক্ষর করেছিলেন।

.৯/১১ হামলার সন্দেহভাজন খালিদের সঙ্গে ‘সমঝোতা চুক্তি’ বাতিল করল যুক্তরাষ্ট্র: পেন্টাগন.

তবে অস্টিন এই সমঝোতার বিষয়ে আগে থেকে অবগত ছিলেন না বলে জানা যায়। পরে তিনি এটি বাতিল করার চেষ্টা করেন। শেষ পর্যন্ত গত বছরের গ্রীষ্মে একটি ফেডারেল আপিল আদালত সমঝোতাটি বাতিল করে দেয়।

যুক্তরাষ্ট্রের কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারটি নাইন ইলেভেন হামলার ছয় মাস পর চালু করা হয়। বর্তমানে সেখানে প্রায় ১৫ জন বন্দী রয়েছেন।

.৯/১১ হামলার ‘মূল পরিকল্পনাকারীর’ বিচার আবার শুরু হচ্ছে