পটুয়াখালীর দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি ঘোষণাকে কেন্দ্র করে সংগঠনটির নেতাকর্মীদের মধ্যে দ্বিধাবিভক্তির সৃষ্টি হয়েছে। পদপ্রত্যাশী ও পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা ঝাড়ুমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ আয়োজন করলে অন্যদিকে নতুন কমিটির নেতৃত্বে থাকা সদস্যরা আনন্দ মিছিলের মাধ্যমে তাদের স্বাগত জানিয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) বিকেল ৫টার দিকে দুমকি নতুন বাজারের মামুন মার্কেট এলাকা থেকে পদবঞ্চিত নেতাকর্মীরা একটি ঝাড়ুমিছিল বের করেন। এটি বাজারের প্রধান সড়কগুলো প্রদক্ষিণ করে একই স্থানে ফিরে আসে এবং সেখানেই সংক্ষিপ্ত প্রতিবাদ সমাবেশ অনুষ্ঠিত হয়।
সমাবেশে বক্তব্য রাখেন দুমকি উপজেলা যুবদলের সাবেক আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন হাওলাদার ও সাবেক যুগ্ম আহ্বায়ক মো. জসিম উদ্দিন শম্ভু। তারা অভিযোগ করেন, নতুন কমিটি গঠনে দীর্ঘদিনের ও পরীক্ষিত নেতাকর্মীদের যথাযথ মূল্যায়ন করা হয়নি। বিগত সময়ে বিতর্কিত কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগ রয়েছে এমন ব্যক্তিদের গুরুত্বপূর্ণ পদ দেওয়া হয়েছে বলেও তারা দাবি করেন।
বক্তারা আরও জানান, ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে আওয়ামী লীগ নেতার বাসার কেয়ারটেকার হিসেবে দায়িত্ব পালনকারী এবং জাতীয় পার্টির নেতাদের ফুল দিয়ে স্বাগত জানানো ব্যক্তিদের নিয়ে গঠিত এই কমিটি তৃণমূলের নেতাকর্মীরা গ্রহণযোগ্য মনে করবেন না। তারা নিরপেক্ষভাবে যাচাই-বাছাইয়ের মাধ্যমে ত্যাগী ও দীর্ঘমেয়াদী নেতাকর্মীদের মূল্যায়ন করে পুনরায় কমিটি ঘোষণার দাবি জানান।
এর আগে দুমকি উপজেলা যুবদলের নতুন কমিটি অনুমোদন দেওয়া হয়। এতে জাকির আলম মিলনকে সভাপতি এবং মো. জহিদুল ইসলাম রুবেলকে সাধারণ সম্পাদক করা হয়েছে। কমিটির অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পদে রয়েছেন সিনিয়র সহ-সভাপতি মিজানুর রহমান লাল মিয়া, সহ-সভাপতি মো. সাইদুর রহমান খান, সিনিয়র যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক মো. মাইনুল ইসলাম সোহেল এবং সাংগঠনিক সম্পাদক মো. কালাশ তালুকদার।
নতুন কমিটি ঘোষণার পর পাগলা চত্বরে যুবদলের অপর একটি অংশের নেতাকর্মীরা আনন্দ মিছিল করেন। তারা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে নতুন কমিটিকে স্বাগত জানান। পদবঞ্চিতদের ক্ষোভ ও প্রতিবাদের পাশাপাশি সমর্থকদের আনন্দযাত্রা দুমকি উপজেলা যুবদলের অভ্যন্তরীণ মতপার্থক্য প্রকাশ্যে তুলে ধরেছে।